কুইন্স পাবলিক লাইব্রেরিতে ‘লেখকের অঙ্গন’-এর ২৭তম গ্রন্থালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রবাসে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে এ সভার আয়োজন করা হয়।
শনিবার নিউইয়র্কের কুইন্স পাবলিক লাইব্রেরিতে সাহিত্যপ্রেমী, কবি, লেখক ও পাঠকদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে এ সাহিত্যসভা অনুষ্ঠিত হয়। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
কবি শহীদ কাদরীর সাহিত্যভাবনাকে ধারণ করে ‘লেখকের অঙ্গন’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক নীরা কাদরী দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে বাংলা সাহিত্যচর্চার এক অনন্য পরিমণ্ডল গড়ে তুলেছেন। তার উদ্যোগে নবীন ও প্রবীণ লেখকদের মধ্যে বইপাঠ, গ্রন্থালোচনা ও সাহিত্যবিষয়ক মুক্ত মতবিনিময়ের মাধ্যমে একটি সৃজনশীল সেতুবন্ধন তৈরি হয়েছে, যা বাংলা সাহিত্যের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কবি ও সাবেক ব্যাংকার মোহাম্মদ মহিবুর রহমান হুমায়ূন আহমেদের ‘গল্পসমগ্র’ নিয়ে আলোচনা করেন।
তিনি বলেন, হুমায়ূন আহমেদের গল্পে সাধারণ মানুষের জীবন, সুখ-দুঃখ, প্রেম, সম্পর্ক ও মানবিক অনুভূতি অসাধারণ মমত্ববোধে উঠে এসেছে। তার সহজ অথচ শক্তিশালী ভাষাশৈলী এবং প্রাণবন্ত চরিত্র নির্মাণ পাঠককে গল্পের গভীরে নিয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, মানবজীবনের সূক্ষ্ম মনস্তত্ত্ব ও বাস্তবতাকে শিল্পিতভাবে উপস্থাপনের মধ্য দিয়েই হুমায়ূন আহমেদ বাংলা কথাসাহিত্যে এক অনন্য স্থান অধিকার করেছেন।
এরপর কবি ও সাহিত্যিক এবিএম সালেহউদ্দিন সিরাজুল হকের ‘বেদনার তিমিরে’ গ্রন্থ নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, বইটি গভীর জীবনবোধ, মানবিক অনুভূতি ও আত্মঅনুসন্ধানের এক অনন্য সাহিত্যকর্ম।
লেখকের সংবেদনশীল ভাষা, আবেগঘন উপস্থাপনা এবং বাস্তব জীবনের প্রতিফলন পাঠককে দীর্ঘক্ষণ ভাবনার জগতে আবিষ্ট রাখে।
কবি ও লেখক সুরীত বড়ুয়া সাদাত হাসান মান্টোর ‘কালো সীমানা’ নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, মান্টোর সাহসী ও আপসহীন লেখনী সমাজবাস্তবতার নির্মম সত্যকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরেছে। দেশভাগ, সহিংসতা, সাম্প্রদায়িকতা ও মানবিক বিপর্যয়ের চিত্রায়ণে মান্টো তার অসাধারণ সাহিত্যিক শক্তির পরিচয় দিয়েছেন।
বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক হাসান ফেরদৌস আব্দুল্লাহ জাহিদের ‘আমেরিকায় রবীন্দ্রনাথ’ গ্রন্থ নিয়ে আলোচনা করেন।
তিনি বলেন, বইটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিশ্বজনীনতা এবং আমেরিকায় তার সাহিত্য, দর্শন ও চিন্তার প্রভাবকে গবেষণাভিত্তিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে উপস্থাপন করেছে। তথ্যসমৃদ্ধ ও প্রাঞ্জল ভাষায় রচিত এ গ্রন্থ রবীন্দ্রগবেষণায় একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
লেখক ও সাহিত্যিক ওবায়দুল্লাহ মামুন বেবী হালদারের ‘আলো-আঁধারি’ নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, এটি সংগ্রাম, আত্মমর্যাদা, বঞ্চনা ও আত্মপ্রতিষ্ঠার এক মর্মস্পর্শী জীবনকথা। লেখিকার অকপট লেখনী সমাজের বৈষম্য ও নারীর জীবনসংগ্রামের কঠিন বাস্তবতাকে পাঠকের সামনে উন্মোচন করে।
সবশেষে লেখক ও গবেষক আহমাদ মাযহার ‘আব্দুল হক জন্মশতবর্ষ স্মারকগ্রন্থ’ (সম্পাদক: সৈয়দ আজিজুল হক ও মোবারক হোসেন) নিয়ে আলোচনা করেন।
তিনি বলেন, ভাষাবিদ ও সাহিত্যিক আব্দুল হকের জীবন, কর্ম, চিন্তা ও অবদানকে ধারণ করে গ্রন্থটি একটি মূল্যবান প্রামাণ্য সংকলনে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন গবেষক ও লেখকের প্রবন্ধে তার বহুমাত্রিক কর্মজীবন ও সাহিত্যভাবনা গভীরভাবে উঠে এসেছে।
অনুষ্ঠানে লেখিকা রানু ফেরদৌস ও শৈবালসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।


