স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের অনিয়ম নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করায় সাইবার হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছে বেসরকারি টেলিভিশন ‘চ্যানেল ওয়ান’।
শনিবার এক বিবৃতিতে সম্প্রচার মাধ্যমটি দাবি করে, প্রতিবেদনটি প্রচারের পর থেকেই তাদের ফেসবুক পেজ ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ভুয়া কপিরাইট দাবি, দলবদ্ধভাবে গণ-রিপোর্টিং-এর মুখোমুখি হচ্ছে।
চ্যানেল ওয়ান জানায়, গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার সংবাদ বুলেটিনে ‘নৈতিকতা লঙ্ঘন করে সরকারের সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর ব্যবসা; তিন মন্ত্রণালয়ে ঠিকাদারি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন সম্প্রচার করা হয়। উক্ত প্রতিবেদনে স্পষ্ট অভিযোগ তোলা হয়, মীর শাহে আলমের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বেশ কয়েকটি সরকারি সংস্থার কাজ হাতে নিয়েছে, যার মধ্যে তার নিজের মন্ত্রণালয়ের কাজও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অনুসন্ধানী ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর তার নিজস্ব কোম্পানি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রায় ৪০ কোটি টাকার সরকারি কাজ বাগিয়ে নিয়েছে। প্রতিবেদনটিতে দেশের বিশিষ্ট আইন বিশেষজ্ঞদের মতামতও তুলে ধরা হয়েছিল, যারা ক্ষমতায় থেকে সরকারের সঙ্গে ব্যবসায়িক চুক্তিকে সংবিধান এবং নৈতিকতার পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন।
বিবৃতিতে চ্যানেল ওয়ানের প্রধান সম্পাদক নাজমুল আশরাফ জানান, প্রতিবেদনটি প্রচারের পরপরই তাদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে এই সাইবার হামলা শুরু হয়। ফেসবুক পেজে ক্রমাগত হামলার পাশাপাশি তাদের চ্যানেলের অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টটি হ্যাক করার জন্যও বাইরে থেকে নানাভাবে চেষ্টা চালানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
চ্যানেল কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিবেদনটি ইন্টারনেটে আপলোড করার পর ‘আনন্দবার্তা’ ও ‘আলী খান’ নামের দুটি ফেসবুক পেজ থেকে মিথ্যা কপিরাইট দাবি করে ভিডিওটি আটকে দেওয়া হয়। নিজস্ব তৈরি করা মৌলিক প্রতিবেদনের ওপর অন্য একটি তৃতীয় পক্ষ মালিকানা দাবি করায় চ্যানেল ওয়ান বিষয়টিকে অত্যন্ত অস্বাভাবিক এবং পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলে বর্ণনা করেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভুয়া কপিরাইট দাবির পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে ওই খবর ও ছবিগুলো পুরোপুরি সরিয়ে ফেলার জন্য সুসংগঠিতভাবে নানা তৎপরতা চালানো হচ্ছে। চ্যানেলের মূল কনটেন্টের বিরুদ্ধে গণহারে রিপোর্ট করার জন্য রাতারাতি বিপুল সংখ্যক ভুয়া বা ‘বট’ অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হয়েছে বলে সম্প্রচার মাধ্যমটি দাবি করে।
চ্যানেল ওয়ানের মতে, মীর শাহে আলম সম্পর্কিত সদ্য প্রকাশিত পোস্টগুলোর বিরুদ্ধে বারবার রিপোর্ট করাসহ ফেসবুক পেজের প্রোফাইল ও কভার ছবিতেও কপিরাইট স্ট্রাইক দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, মূলত তাদের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজটি যেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে স্থায়ীভাবে ডিলিট হয়ে যায়, সেই উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হচ্ছে।
চ্যানেলটি আরও জানায়, এই সাইবার হামলার বিষয় নিয়ে শনিবার তারা একটি নতুন খবর প্রকাশ করেছিল, যা পরবর্তীতে ফেসবুকের প্ল্যাটফর্ম থেকে রহস্যজনকভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়।
চ্যানেল ওয়ান স্পষ্ট জানিয়েছে, প্রতিমন্ত্রীর ঠিকাদারি ব্যবসা নিয়ে করা এই বিশেষ প্রতিবেদনটি সাংবাদিকতার নিয়ম ও পেশাদারিত্বের সর্বোচ্চ মানদণ্ড মেনেই তৈরি করা হয়েছিল। বিবৃতিতে বলা হয়, এই প্রতিবেদন নিয়ে যদি কারও কোনো আপত্তি থাকে, তবে তা মোকাবিলা করার বা জবাব দেওয়ার জন্য দেশে সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে।
এই ধরনের পদক্ষেপকে ‘কাপুরুষোচিত’ আখ্যা দিয়ে এর নিন্দা জানিয়েছে চ্যানেল ওয়ান। সাইবার হামলার মাধ্যমে মূলত একটি স্বাধীন গণমাধ্যমের মুখ বন্ধ করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করে প্রতিষ্ঠানটি।
তারা জানায়, ফেসবুক পেজের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে এবং এই পরিকল্পিত সাইবার হামলার পেছনে কারা জড়িত আছে, তা খুঁজে বের করতে কাজ চলছে।
প্রসঙ্গত, দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছর সম্পূর্ণ বন্ধ থাকার পর চলতি বছরের ২৭ এপ্রিল বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ওয়ান দেশে পুনরায় তাদের আনুষ্ঠানিক সম্প্রচার শুরু করে। ২০১০ সালের ২৭ এপ্রিল তৎকালীন সরকার বিটিআরসির মাধ্যমে চ্যানেলটির ফ্রিকোয়েন্সি বরাদ্দ বন্ধ করে দিলে এর সম্প্রচার কার্যক্রম পুরোপুরি স্থগিত হয়ে গিয়েছিল।


