রাবির ফাইন্যান্স বিভাগে মানোন্নয়ন পরীক্ষায় অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ

রাবির ফাইন্যান্স বিভাগে মানোন্নয়ন পরীক্ষায় অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ
Advertisement
Advertisement

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ফাইন্যান্স বিভাগে নন-কলেজিয়েট, ডিস-কলেজিয়েট ও মানোন্নয়ন পরীক্ষায় নির্ধারিত ফির চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম ও সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশে নির্ধারিত ফির তুলনায় কয়েক গুণ বেশি অর্থ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো পরীক্ষায় নিদিষ্ট কোর্সে সিজিপিএ ২.৭৫ এর নিচে হলে শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়ন পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে বিভিন্ন বিভাগের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মানোন্নয়ন পরীক্ষার ফি বিভাগভেদে ১০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়।

সম্প্রতি ফাইনান্স বিভাগের প্রথম বর্ষের প্রথম সেমিস্টার পরীক্ষার ফর্ম পূরণের বিজ্ঞপ্তিতে দেখা গেছে মানোন্নয়ন পরীক্ষা দেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের বিভাগের সভাপতির নামে ১ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও এই টাকা জমা দেওয়ার পর প্রতি কোর্সের জন্য আলাদা ১০০ টাকা দিতে হয় বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফাইনান্স বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ফাইন্যান্স বিভাগে মানোন্নয়ন পরীক্ষা দেওয়াটাও যেন একপ্রকার বিলাসিতা। নানা কারণে একজন শিক্ষার্থীর পরীক্ষা খারাপ হতে পারে। কিন্তু মানোন্নয়ন পরীক্ষার জন্য এত বেশি টাকা নির্ধারণ করায় চাইলেও অনেক শিক্ষার্থী ইমপ্রুভ দিতে পারছেন না।’

তিনি বলেন, ‘অন্যান্য বিভাগ যেখানে ১০০ থেকে ৫০০ টাকা নেয় সেখানে আমাদের দেড় হাজারের অধিক টাকা দিতে হচ্ছে। এটি শিক্ষার্থীদের ওপর এক ধরনের আর্থিক চাপ। আমরা বিভাগের কাছে অনেকটাই জিম্মি হয়ে আছি।’

তবে শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়ন পরীক্ষার প্রতি নিরুৎসাহিত করার জন্য ফি বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জানান ফাইনান্স বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক এ.এস.এম কামরুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘মান উন্নয়ন পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের প্রবণতা অনেক বেড়ে গেছে। আমরা এটাকে কিছুটা নিরুৎসাহিত করতে চাচ্ছি। মান উন্নয়ন পরীক্ষার ফি আগে ১ হাজার টাকা ছিল, আমরা এটা ৫০০ টাকা বাড়িয়ে দেড় হাজার টাকা করেছি।’

আরও পড়ুন

ফাইন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ অনুযায়ী ৬০ থেকে ৭৫ শতাংশ উপস্থিতি থাকা শিক্ষার্থীদের নন-কলেজিয়েট হিসেবে ৫০০ টাকা জরিমানা দিয়ে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে বিবিএ অধ্যাদেশে এ বাবদ ১ হাজার টাকা ফি নির্ধারিত থাকলেও ফাইন্যান্স বিভাগে নেওয়া হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ টাকা।

তবে নন-কলেজিয়েট শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে জানেন না বলে জানিয়েছেন ফাইনান্স বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক এ.এস.এম. কামরুজ্জামান।

তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত নন-কলেজিয়েট ফি শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকেই জমা দেয়। আমাদের এখানে নন-কলেজিয়েটের জন্য যে ফি নির্ধারিত আছে, সেটা তো দিতেই হয়। তবে এ বিষয়ে ঠিক কত টাকা নেওয়া হচ্ছে, সেটা আমি এই মুহূর্তে সঠিকভাবে বলতে পারছি না। এ বিষয়ে অফিসে খোঁজ নিতে হবে।’

এ ছাড়া উপস্থিতি ৬০ শতাংশের কম হলে তাকে ডিস-কলেজিয়েট হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সাধারণত ডিস-কলেজিয়েট শিক্ষার্থীদের ওই সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকে না। তবে বিভাগের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা দিলে ডিস-কলেজিয়েট শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।

তবে ডিস-কলেজিয়েট শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক এ.এস.এম. কামরুজ্জামান।

এবিষয়ে তিনি বলেন, ‘না, এটা হয় না। এভাবে টাকা নিয়ে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় বসানোর কোনো বিষয় নেই। বরং আমরা শিক্ষার্থীরা যাতে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করি।’

এদিকে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিনের দায়িত্ব পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফরিদুল ইসলাম। এবিষয়ে তিনি বলেন, ‘এসব বিষয়ে আমাকে কেউ এখন পর্যন্ত জানায়নি। আপনার কাছ থেকেই বিষয়টি প্রথম জানলাম। আমি বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে সত্যতা যাচাই করব। যদি কোনো অবৈধ কিছু হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই তা চলতে পারে না।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad