নতুন উপাচার্যের নিয়োগের প্রতিবাদে আন্দোলনে ব্যস্ত চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের সপ্তম দিনে ভিন্নধর্মী আয়োজন নিয়ে হাজির হয়েছেন তারা।
সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিট থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে বড় পর্দায় প্রদর্শন করা হচ্ছে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমা। আন্দোলনের মধ্যে সিনেমা দেখতে সেখানে জড়ো হয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও অবস্থান নিয়ে যন্ত্রকৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শ্রাবন্তী দাস বলেন, ‘নতুন ভিসি যেন আসতে না পারেন, সেজন্য আমরা সব সময় গেটের সামনে থাকছি। কিন্তু সাত দিন হয়ে গেলেও তিনি আসেননি। অপেক্ষা করতে করতে আমরা অনেকটা বিরক্ত হয়ে পড়ছিলাম। তাই সিনেমা দেখতে দেখতে অপেক্ষা করাটা খুব ভালো লাগছে। একদিকে সিনেমা উপভোগ করে ভালো সময় কাটাচ্ছি, অন্যদিকে গেটেও পাহারা দেওয়া হচ্ছে।’
উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে চুয়েটে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ চলছে, যার ফলে বন্ধ রয়েছে সব ধরনের ক্লাস, পরীক্ষা ও ল্যাবসহ নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রম। আন্দোলনকে ঘিরে শিক্ষার্থীরা একের পর এক সৃজনশীল কর্মসূচি আয়োজন করছেন।
এদিন দুপুরে অনুষ্ঠিত হয় ‘শ্বেত শাড়ির গণসাক্ষ্য’ কর্মসূচি, যেখানে একটি সাদা শাড়িতে রং-তুলি ও মার্কারের মাধ্যমে অধ্যাপক সায়েমের দায়িত্বকালের বিভিন্ন ঘটনা, কর্মকাণ্ড ও প্রতিকৃতি ফুটিয়ে তোলা হয়।
এ ছাড়া অধ্যাপক সায়েমের ৫৬ দিনের দায়িত্বকালকে প্রতীকীভাবে তুলে ধরতে প্রধান ফটকের সামনে ‘৫৬ বল শর্ট পিচ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট’ আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের গিটার বাজানো, কার্ড খেলা ও ল্যাপটপে গেম খেলতেও দেখা গেছে।
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, মিছিল, গ্রাফিতি, ক্রিকেট কিংবা সিনেমা–আয়োজনের ধরন আলাদা হলেও তাদের সবার মূল দাবি অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পদে পুনর্বহাল করা।


