রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা, সুশাসন ও জনকল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বর্তমান সরকার মাত্র পাঁচ মাস বা ১৫০ দিনে বহুমাত্রিক ও অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিগত দিনের ভেঙে পড়া রাষ্ট্র কাঠামো পুনরুদ্ধারে ম্যান্ডেট পেয়েছেন গণমানুষের নেতা তারেক রহমান। দায়িত্ব হাতে নিয়ে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যেই তিনি মানুষের আস্থার চূড়ায় অবস্থান করছেন।
শনিবার বিকালে প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পাঁচ মাস পূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী প্রেস উইং এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
মাহদী আমিন বলেন, সময়ের পরিমাপে পাঁচ মাস খুব দীর্ঘ না হলেও একটি গণতান্ত্রিক সরকারের জন্য প্রতিটি দিনই জনগণের প্রতি দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পরীক্ষা। জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকার মূলত গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহের পুনর্গঠন এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে।
তিনি বলেন, গত পাঁচ মাসে জনগণের আস্থা, ইশতেহারের আলোকে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বার্থ রক্ষা, স্বল্প সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, জনগণের স্বাধীনতা ও দেশের সার্বভৌমত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব—এই পাঁচটি ক্ষেত্রে সরকার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রনায়কোচিত নেতৃত্ব দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে।
সরকারের সুশাসনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে মুখপাত্র বলেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার, পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনা এবং বিভিন্ন প্রকল্পের ব্যয় সাশ্রয় ও দুর্নীতিমুক্ত পর্যালোচনা নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ় বার্তা দিয়েছে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক বন্যাদুর্গতদের পুনর্বাসন এবং বিগত দিনে বিপর্যস্ত ও লুণ্ঠিত হওয়া স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের পুনর্নির্মাণে কাজ চলমান রয়েছে।
তিনি যোগ করেন, জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসই সরকারের সবচেয়ে বড় শক্তি, তাই প্রতিটি সংস্কার ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করাকে সরকার নৈতিক দায়িত্ব মনে করে।
বক্তব্যের শুরুতে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে মাহদী আমিন বলেন, ‘দুই বছর আগে আজকের এই সময়ে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি এক রক্তাক্ত অধ্যায়ের সাক্ষী হয়েছিল। রংপুরে আবু সাঈদ, চট্টগ্রামে ওয়াসিম আকরাম, ঢাকায় ফারহানসহ অসংখ্য নিরপরাধ শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগে সে আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয় এবং ফ্যাসিবাদী শক্তির পতন ঘটে। সেই পথ পরিক্রমায় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনায় এসেছে গত ১৬ বছরে সবচেয়ে বেশি গুম, খুন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার দল বিএনপির নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক সরকার।’
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনির সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার এস এ এম মাহফুজুর রহমান, ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) ও শাহাদাৎ স্বাধীন, সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক, গাজী শাহরিয়ার পামির এবং আশরোফা ইমদাদ।


