যশোরে বটি দিয়ে মাকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্কুলশিক্ষক ছেলের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আনোয়ারা বেগম (৫৮) দুর্গাপুর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আলতাফ হোসেন মাস্টারের স্ত্রী। অভিযুক্ত ছেলে মো. মামুনুর রশিদ ওরফে মামুন (৪৫) লাউজানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক।
পুলিশ জানায়, মামুন দুটি বিয়ে করেছিলেন। প্রায় ৯ বছর আগে সদর উপজেলার ভেকুটিয়া গ্রামের মিথিলাকে বিয়ে করেন। বনিবনা না হওয়ায় তাদের বিচ্ছেদ হয়। পরে ঝিকরগাছার অমৃতবাজার গ্রামের রিনাকে বিয়ে করেন তিনি। ছয় বছর আগে সেই সংসারও ভেঙে যায়।
দুই স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের জন্য মামুন তার মাকে দায়ী করতেন। এ নিয়ে মায়ের সঙ্গে তার বিরোধ ছিল। এর আগে মাকে মারধরের ঘটনাও ঘটে।
এলাকাবাসী জানায়, পারিবারিক অশান্তির কারণে মামুন মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তিন বছর আগে তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দুই থেকে তিন মাস চিকিৎসা নেন। এরপর দীর্ঘদিন বাড়িতে থাকতেন না। প্রায় পাঁচ বছর পর বৃহস্পতিবার তিনি বাড়িতে ফেরেন।
বাড়িতে ফেরার পর মায়ের সঙ্গে পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মামুন উত্তেজিত হয়ে ধারালো বটি দিয়ে মাকে মাটিতে ফেলে আঘাত করেন। এতে আনোয়ারা বেগমের গলা কেটে যায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে তার মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া যায়।
চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে মামুন বটি ফেলে পালিয়ে যান। পরে পুলিশ তাকে আটক করে।
কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তা যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। অভিযুক্ত মামুনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।


