কুয়াকাটায় সাংবাদিককে হাতুড়িপেটার ঘটনায় গ্রেপ্তার ২

কুয়াকাটায় সাংবাদিককে হাতুড়িপেটার ঘটনায় গ্রেপ্তার ২
পটুয়াখালীতে সাংবাদিক কে এম বাচ্চুর ওপর হামলায় গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামি। ছবি: পুলিশের সৌজন্যে
Advertisement
Advertisement

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রতিনিধি কে এম বাচ্চুর ওপর হামলার ঘটনায় করা মামলায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার রাতে কুয়াকাটা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গত ২৪ জুলাই রাত ১১টার দিকে কুয়াকাটা মেরিন ড্রাইভ সড়কের হোটেল সৈকতসংলগ্ন এলাকায় কে এম বাচ্চুর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে তার মাথা ও দুই পায়ে গুরুতর জখম করে।

স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুয়াকাটা ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তাকে আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।

আহত সাংবাদিকের পরিবারের অভিযোগ, চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি কুয়াকাটায় এক তরুণীকে জোর করে হোটেল কক্ষে নিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে বায়েজিদ শিকদারের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া, অভিযুক্তদের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করায় তারা ক্ষুব্ধ ছিলেন বলেও পরিবারের দাবি।

আরও পড়ুন

মামলায় কুয়াকাটা পৌর ছাত্রদলের ৮ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি বায়েজিদ শিকদার রানা, ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি শহীদ শিকদার, পৌর যুবদলের সহসাধারণ সম্পাদক শহীদ শিকদার, পৌর যুবদলের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হারুন মুসল্লিসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, হামলার সময় কে এম বাচ্চু একা ছিলেন। এ সময় অভিযুক্তরা তাকে এলোপাতাড়ি হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করেন।

পরিবারের আরও অভিযোগ, সরকারি জমি থেকে গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি নারী-সংক্রান্ত ঘটনার প্রতিবাদ জানানোর পর থেকে কে এম বাচ্চুকে বিভিন্ন সময় হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।

এ বিষয়ে কুয়াকাটা পৌর যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মো. ফারুক বলেন, বিষয়টি কেন্দ্রীয় কমিটিকে জানানো হয়েছে। বর্তমানে জেলা কমিটি না থাকায় স্থানীয়ভাবে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান হাওলাদার বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের দলে কোনো স্থান নেই। সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হাওলাদার বলেন, মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad