রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে কবে নাগাদ বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে আসবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। কারণ, এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের সেফটি প্রেশার ভালব কেন কাজ করছে না, সে বিষয়ে রাশিয়া থেকে আসা বিজ্ঞানীরা এখনো কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারছেন না।
পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের একজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা টাইমস অব বাংলাদেশকে জানান, কেন্দ্রটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রোসাটমের এক কর্মকর্তা তাকে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে একটি ফলাফলের কথা জানিয়েছেন। তবে সেই ফলাফল ভালো নাকি খারাপ হবে, সে বিষয়ে তিনি কিছু উল্লেখ করেননি। শুধু বিষয়টি ইতিবাচক হওয়ার শুভকামনা করতে বলেছেন।
এদিকে, ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্দার খোজিন সম্প্রতি ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই নেতাদের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে জানান, অক্টোবর মাসের মধ্যে রূপপুর থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের লক্ষ্য নিয়ে কাজ এগিয়ে চলেছে।
তবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন রাষ্ট্রদূতের এই বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন। তিনি টাইমসকে বলেন, সংবাদ মাধ্যমে বিষয় যেভাবে এসেছে তা সঠিক নয়। অক্টোবর মাসেই বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যায় না।
সচিব জানান, রাশিয়া থেকে আসা বিশেষজ্ঞ দল এখনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে। তাদের প্রতিবেদন পাওয়ার পরেই পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এর আগে গত আগস্ট মাসেই রূপপুর থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর কথা জানিয়েছিল সরকার। জ্বালানি লোডসহ প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতিও শেষ হয়েছিল। কিন্তু জুলাইয়ের শেষ দিকে সেফটি ভালভে সমস্যা দেখা দেয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এ প্রসঙ্গে জানান, সেফটি ভালব কাজ না করায় নির্দিষ্ট করে বিদ্যুৎ পাওয়ার সময়সীমা বলা সম্ভব হচ্ছে না।
প্রথমে স্থানীয় পর্যায়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। ফলে গত ১১ সেপ্টেম্বর রাশিয়া থেকে পাঁচ সদস্যের এক বিশেষজ্ঞ দল বাংলাদেশে আসে এবং পরদিন থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করে।
অন্যদিকে, অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের মহাপরিচালক অ্যালেক্সি লিখাচেভের সঙ্গে বৈঠক করে দ্রুততম সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা করেন। তবে রোসাটম প্রধানও এর কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দিতে পারেননি।
রূপপুর প্রকল্পের এই বিলম্বের কারণে বাংলাদেশ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। গ্যাস সংকটের কারণে গত মাস থেকে সারাদেশে লোডশেডিং চলায় গৃহস্থালি কাজের পাশাপাশি কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প উৎপাদন ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। কেন্দ্রটি থেকে বিদ্যুৎ এলে জনগণের দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব হতে পারত।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পরমাণু শক্তি কমিশন অধীনে এই প্রকল্পের আওতায় রাশিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয় এক্সপোর্ট মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট নির্মাণ করছে, যা দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ১০ থেকে ১২ শতাংশ পূরণ করবে। মূল চুক্তি অনুযায়ী প্রথম ইউনিট ২০২৩ সালে এবং দ্বিতীয় ইউনিট ২০২৪ সালে চালু হওয়ার কথা থাকলেও কোভিড-১৯ মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং সঞ্চালন লাইনের জটিলতায় তা বারবার পিছিয়ে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ নির্ধারণ করা হয়।


