জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো দলের নয়: নাহিদ

জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো দলের নয়: নাহিদ
ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো একক রাজনৈতিক দলের নয়, সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক শক্তির সম্মিলিত আন্দোলন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

মঙ্গলবার জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তির উদ্যোগে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: স্ফুলিঙ্গ থেকে চলমান বিপ্লব’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, গণতন্ত্র, রাষ্ট্র সংস্কার, ভোটাধিকার, বৈষম্য দূরীকরণ ও স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষায় এই আন্দোলন হয়। নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠিত হলেও জনগণের সংস্কারকামী গণরায় বাস্তবায়ন হয়নি। জুলাই সনদ, রাষ্ট্র সংস্কার ও ভোটাধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলনের চেতনা বহমান থাকবে।

পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম লক্ষ্য ছিল স্বাধীন ও সার্বভৌম পররাষ্ট্রনীতি প্রতিষ্ঠা। সীমান্ত হত্যা বন্ধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ ও অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের জন্য বাংলাদেশকে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে। কোনো রাষ্ট্রের আধিপত্য না মেনে জাতীয় স্বার্থে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনার আহ্বান জানান তিনি।

তরুণদের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার ১৮ মাসে এক কোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পাঁচ মাস অতিবাহিত হয়েছে। প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হলে তা তরুণ সমাজের জন্য ইতিবাচক হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, গণতান্ত্রিক পরিবেশ, জ্ঞানচর্চা, শিক্ষক ও উপাচার্য নিয়োগ এবং প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে শিক্ষার্থীবান্ধব ও রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠতে হবে। শিক্ষার্থীদের কণ্ঠকে ভয় পায়, এমন রাষ্ট্র গণতান্ত্রিক নয়। অতীতে যারা শিক্ষার্থীদের দমন করতে চেয়েছে, ইতিহাস তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে।

আরও পড়ুন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় জগন্নাথ কলেজের অনার্স ও মাস্টার্স কার্যক্রম বন্ধ করা হয়। গ্রন্থাগার, গবেষণাগার ও শিক্ষার্থীদের একটি অংশ সেখানে স্থানান্তর করা হয়। তবে সেই ঐতিহাসিক অবদানের মূল্যায়ন এখনো হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতি জাতির ঐতিহাসিক ঋণ রয়েছে। আবাসন, দ্বিতীয় ক্যাম্পাস ও বাজেট বৃদ্ধিসহ জবির আন্দোলন দীর্ঘদিনের বঞ্চনার বহিঃপ্রকাশ। এই বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা দিলে তা উচ্চশিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, কঠিন সময়ে জগন্নাথের শিক্ষার্থীরা সাহসিকতার সঙ্গে রাজপথে ছিলেন। শাহবাগে পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙা ও ১৫ জুলাইয়ের প্রতিরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। শহীদ, আহত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও আন্দোলনকারীদের অবদান সংরক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে পূর্ণাঙ্গ ডকুমেন্টেশন ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা প্রয়োজন।

দ্রুত দ্বিতীয় ক্যাম্পাস বাস্তবায়নের আশা প্রকাশ করে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে সব পক্ষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত সফলতা বলে মন্তব্য করেন তিনি।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর