আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইনের বৈধতা নিয়ে করা রিট সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।
মঙ্গলবার বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ সরাসরি আবেদনটি খারিজ করে।
১৯৭৩ সালে প্রণীত ট্রাইব্যুনালস আইনের বৈধতা নিয়ে ২৪ জুন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ মহসিন রশিদ হাইকোর্ট শাখায় রিট আবেদন করেন। এতে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়। আবেদনকারী দাবি করেন, আইনের কয়েকটি বিধান সংবিধানে স্বীকৃত মৌলিক অধিকার ও ন্যায়বিচারের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
রিট আবেদনে ট্রাইব্যুনাল আইনের নির্দিষ্ট বিধানের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। আবেদনকারীর ভাষ্য, আইনটির কিছু ধারা সংবিধানে সুরক্ষিত মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় ও ন্যায়বিচারের নীতির পরিপন্থী।
মহসিন রশিদ বলেন, ‘আইনটি তার মূল উদ্দেশ্য পূরণ করেছে। ভবিষ্যতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে বিচারিক হত্যার অস্ত্র হিসেবে এর অপব্যবহার রোধ করা প্রয়োজন।’ ফলে বিধানগুলোকে অসাংবিধানিক ও বাতিল ঘোষণা চেয়ে আদালতে রুল জারির আবেদন জানানো হয়।
আবেদনকারী আরও যুক্তি দেন, বিদ্যমান আইনের কিছু বিধান সংবিধানের নির্দিষ্ট অনুচ্ছেদের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এসব বিধানের বিচারিক পর্যালোচনা প্রয়োজন বলে তিনি দাবি করেন।
রিট আবেদনের প্রতিক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম টাইমসকে বলেন, ‘২০১০ সাল থেকে এই আইনের অধীনে মানবতাবিরোধী অপরাধের বহু মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে।’
তিনি জানান, অতীতেও আইনটি চ্যালেঞ্জ করে রিট করা হলেও সেগুলো গ্রহণযোগ্য হয়নি।
বর্তমান আবেদনের পটভূমিতে সামনে এসেছে ট্রাইব্যুনাল আইন নিয়ে পূর্ববর্তী বিতর্ক। ২০২৫ সালের ১৫ নভেম্বর তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘সংশোধিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ নেই, কারণ আইনটি সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত।’
তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটরের ভাষ্য ছিল, ‘১৯৭৩ সালের ট্রাইব্যুনাল আইনকে সংবিধানে ব্ল্যাংকেট প্রটেকশন দেওয়া হয়েছে।’ তার মতে, এই আইনের বৈধতা নিয়ে সাংবিধানিক আদালতে প্রশ্ন তোলা যায় না। বিচারাধীন কোনো ব্যক্তি মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে হাইকোর্ট বা অন্য কোনো সাংবিধানিক আদালতে আবেদন করতে পারেন না।
মোহাম্মদ মহসিন রশিদ এর আগেও ট্রাইব্যুনাল-সংশ্লিষ্ট মামলায় অংশ নেন। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চলাকালে আওয়ামী লীগ নেতা মতিয়া চৌধুরীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হলে তিনি তার পক্ষে শুনানি করেন।


