গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুতির দুই বছর পর দেশে ফেরার আলোচনার মধ্যেই দল গোছানোর কাজ শুরু করতে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা। এর অংশ হিসেবে তার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
চলতি মাসের মধ্যেই পুতুলের এই মনোয়ন চূড়ান্ত করা হতে পারে বলে ক্ষমতাচ্যুত দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতারা জানিয়েছেন। অবশ্য পুতুল একা নন, চট্টগ্রাম বিভাগের একজন এবং বরিশাল বিভাগের আরও একজন নেতার সভাপতিমণ্ডলীতে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে আলোচনা আছে।
আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কাউন্সিল বা কার্যনির্বাহী সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দলের সভাপতি এই পদে মনোয়ন দিয়ে থাকেন।
এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শুক্রবার ভারতের নয়াদিল্লীতে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সভার বৈঠক ডাকা হয়েছে। তবে এই বৈঠকেই সব চূড়ান্ত হবে, বিষয়টি এমন নয়। এখানে পুতুলের মনোয়নের ব্যাপারে সিদ্ধান্তের দায়িত্ব আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে শেখ হাসিনাকে দেওয়া হলে তিনি আগামী ২২ সেপ্টেম্বর পরিবারের অন্যান্য সদস্যসহ দলের আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে একাধিক নেতা জানিয়েছেন।
শুরুতে ভারতে সশরীরে বৈঠক আয়োজনের কথা ভাবা হয়েছিল। তবে বেশ কিছু কারণে এই সিদ্ধান্ত শেষ মুহূর্তে পাল্টানো হয়।
প্রথমত কমিটির সব সদস্য এ মুহূর্তে ভারতে নেই বলে সে সিদ্ধান্ত পাল্টানো হয়। দ্বিতীয়ত বৈঠকের কথা শুনে ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে থাকা কয়েকজন নেতা এরই মধ্যে দিল্লীতে পৌঁছে যান। তবে দেশটিতে মৌসুমি ইনফ্লুয়েঞ্জা ছড়িয়ে পড়ার কারণে সতর্ক থাকতে হচ্ছে।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় টাইমস অব বাংলাদেশকে তাদের দিল্লীতে পৌঁছানোর খবর নিশ্চিত করেছেন।
দিল্লীতে থাকা নেতাদের মধ্যে আরও রয়েছেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন।
যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যে আছেন মাহবুব উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক, এস এম কামাল হোসেন, মির্জা আজম, শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, সুজিত রায় নন্দী।
আরও আছেন অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক ওয়াসেকা আয়েশা খান, আইনবিষয়ক সম্পাদক নজিবুল্লাহ হিরু, তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক সেলিম মাহমুদ, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, সাংস্কৃতিকবিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল এবং সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।
তবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের চোখের সানি অপারেশন, প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ সেলিমের ব্যকপেইন, আর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ মুম্বাইতে চিকিৎসাধীন থাকায় দিল্লি যাননি বলে জানা গেছে।
কেন্দ্রীয় কমিটির আরেক সদস্য টাইমসকে বলেছেন, বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ভারত সরকারের দ্বিপাক্ষিক নানা বিষয়ের কারণে দিল্লীতে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ব্যাপারে এখন থেকে আর কোনো কিছু প্রকাশ না করার নির্দেশনা রয়েছে। এখানেও কৌশলগত বিষয় থাকতে পারে।
একজন নেতা জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, বৈঠকটি ভার্চ্যুয়ালি করা হবে।
শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকতেই তার উত্তরাধিকার কে হবেন–এ নিয়ে আলোচনা ছিল। এর মধ্যে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি তার বোন শেখ রেহানাকে নিয়ে ভারতে চলে যান। পুতুল আগে থেকেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার চাকরিতে নয়াদিল্লীতে ছিলেন। তবে এখন তিনি সেই চাকরিতে আর নেই।
এর মধ্যে শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আইনের মুখোমুখি হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আর তিনি কারাগারে গেলে দলের হাল কে ধরবে, তা নিয়েও আলোচনা আছে।
এমন পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের পুনর্গঠন ও পুতুলের রাজনীতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে দলের মধ্যে আলোচনা ছিল। মূলত এ কারণেই তিনি (পুতুল) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার চাকরি ছেড়েছেন বলে জানান নেতারা।


