টুথপেস্টের মধ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত করার বিষয়ে তদন্ত করতে তিন সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। কমিটিকে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী এবং বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। একইসঙ্গে টুথপেস্টের মধ্যে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক রোধে কার্যকর ব্যবস্থা কেন নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে আদালত।
দেশের বাজারে থাকা টুথপেস্টের বড় একটি অংশে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ার দাবি সামনে আসার পর এ বিষয়ে তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন আইনজীবী মো. আবদুল্লাহ আল মামুন। রিটের পক্ষে তিনি শুনানি করেন।
রিটে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, শিল্প সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ মোট আটজনকে বিবাদী করা হয়।
রিটে দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ৭৬ শতাংশ টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকার বিষয়ে সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিশু থেকে বয়স্ক, প্রায় সব বয়সী মানুষের প্রতিদিনের ব্যবহৃত টুথপেস্ট নিয়ে উদ্বেগের কারণ তৈরি হয়েছে। দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের টুথপেস্টের প্রায় চারটির মধ্যে তিনটিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। শুধু প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নয়, শিশুদের জন্য বাজারজাত টুথপেস্টেও এই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডিও) এক বছরব্যাপী গবেষণায় বাজারে থাকা ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করে। গবেষণায় দেখা যায়, ২৬টি নমুনা, অর্থাৎ ৭৬ দশমিক ৫ শতাংশে মাইক্রোপ্লাস্টিক রয়েছে। প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০টি থেকে সর্বোচ্চ ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়।
রোববার রাজধানীর লালমাটিয়ায় এসডিওর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক ইন টুথপেস্ট’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। সংস্থাটির ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি আগেই প্রমাণিত হয়েছে। বাংলাদেশে বাজারজাত টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে এটিই প্রথম বৈজ্ঞানিক গবেষণা বলে দাবি করে সংস্থাটি।


