নতুন পেশকারদের সততা সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা: ভূমিমন্ত্রী

নতুন পেশকারদের সততা সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা: ভূমিমন্ত্রী
ছবি: সৌজন্যে
Advertisement
Advertisement

নতুন পেশকারদের সততার মানসিকতাই সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা বলে মন্তব্য করেছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু।

সোমবার ঢাকার তেজগাঁও ভূমি ভবনের ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় সেমিনার হল রুমে নবযোগদানকৃত কর্মচারিগণের (পেশকার) ওরিয়েন্টেশন শীর্ষক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তেব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবুল হাছানাত হুমায়ুন কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ, ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুল্লাহ আল বাকী, ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান এ জে এম সালাহউদ্দিন নাগরী।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে নবযোগদানকৃত পেশকারসহ ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ আমাদের সবার। আমাদের সততার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, যিনি দেশের কঠিন বিপদের সময় স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন এবং সারা বিশ্বে সততার নিদর্শন রেখে গেছেন।’

তিনি বলেন, পরবর্তীতে দেশের ক্রান্তিকালে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে মায়ের ভূমিকায় সরকারের দায়িত্ব নিয়েছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। আর ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সুযোগ্য সন্তান তারেক রহমান সর্বোচ্চ ম্যান্ডেট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় আসেন। প্রধানমন্ত্রী চান সামনের সকল ক্ষত দূর করে দেশের ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল হোক।’

আরও পড়ুন

মাত্র ১২৫ টাকা খরচ করে কোনো প্রকার উৎকোচ বা তদবির ছাড়াই সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সরকারি চাকরিতে যোগদানকারী নতুন পেশকারদের মনোভাবের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, সমাজে শ্রেণি বৈষম্য দূর করতেই এ সরকার কাজ করে যাচ্ছে। দুঃখী মানুষের কল্যাণ এবং একটি দুর্নীতিমুক্ত কর্মপরিবেশ গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর।

তিনি বাবা-মা ও শিক্ষকদের সম্মান রক্ষা করে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও সততার সঙ্গে দেশের ও জনগণের জন্য কাজ করার জন্য নবযোগদানকৃতদের প্রতি আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, বাংলাদেশের বিগত ২০ বছরের মধ্যে এত সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে নিয়োগ সম্পন্ন হওয়ার কোনো রেকর্ড নেই। কোনো ধরনের তদবির ছাড়াই মাত্র ১২৫ টাকা খরচ করে আপনারা যারা চাকরি পেয়েছেন এবং আপনাদের অভিজ্ঞতার যে বর্ণনা দিয়েছেন, তা সত্যিই আমাদের মুগ্ধ করেছে। বিগত ২০ বছর ধরে এ দেশ দুর্নীতি ও অনিয়মে জর্জরিত ছিল।

মীর হেলাল আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠনের প্রথম দিন থেকেই দেশের মানুষের প্রতি তার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। নির্বাচনের আগে ঘোষিত ৩১ দফা অনুসরণ করেই সরকার দেশে সর্বপ্রথম ১৮০ দিনের কর্মসূচি বাস্তবায়নে আত্মনিয়োগ করেছে।

ভূমি ব্যবস্থাপনার বিষয়ে তিনি বলেন, মাঠ পর্যায়ে কর্মরত গুটিকয়েক দুষ্টু লোকের দুর্নীতির বোঝা পুরো ভূমি ব্যবস্থাপনাকে টানতে হয়। তাই সকলকে দুর্নীতিমুক্ত থেকে সততার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

জনগণের অধিকারের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী সবসময়ই বলে থাকেন–যারা সরকারি সেবা নিতে অফিসে আসেন, সেই জনগণই হলো এদেশের প্রকৃত মালিক। কাজেই আপনাদের অনুভব করতে হবে এই জনগণই প্রজাতন্ত্রের মালিক এবং তাদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে হবে।

বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দিতে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ অন্তরে ধারণ করে একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারা বলেন, ভূমির কাজে এসে যাতে জনগণ কোনোভাবেই হয়রানির শিকার না হন, সেদিকে কড়া নজর রাখতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে সিটিজেন সার্ভিস চালু করেছেন এবং বিগত ২০ বছর ধরে আটকে থাকা পদোন্নতি জট দূর করেছেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে নবযোগদানকৃত কর্মচারীদের মধ্যে মোছা. ফারহানা খাতুন, মো. শিহাব উদ্দিন ও শাকিল আহমদ আবেগজড়িত কণ্ঠে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও দুর্নীতিমুক্ত প্রক্রিয়ায় চাকরি প্রদান করায় সরকারের সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad