খাগড়াছড়ি জেলা সদরে স্কুলছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সহিংসতা ও সড়ক অবরোধের পর টানা অস্থিরতা কাটিয়ে ধীরে ধীরে স্বাভাবিকতায় ফিরছে জনজীবন। জেলা সদর ও গুইমারার সহিংসতার ঘটনায় উদ্বিগ্ন পাহাড়ি ও বাঙালিদের মাঝে অনেকটাই স্বস্তি ফিরে এসেছে। মানুষ আস্তে আস্তে বাড়ি থেকে বের হচ্ছে এবং যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে।
বুধবার জেলা প্রশাসক এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার বলেন, ‘তদন্ত কমিটির কাজ শুরু হলেও সরেজমিন কার্যক্রম আগামী রোববার থেকে শুরু হবে। সবকিছু স্বাভাবিক হলে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর মতামতের ভিত্তিতে ১৪৪ ধারা তুলে নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার তদন্তের জন্য গঠিত পাঁচ সদস্যের কমিটি তথ্য সংগ্রহ করছে। এ ছাড়া, ভুক্তভোগীর মেডিকেল পরীক্ষার প্রতিবেদন মঙ্গলবার রাতেই তদন্ত কর্মকর্তা ও পুলিশ সুপারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
অনেক দিন পর দোকানপাট খুলেছে। বাস টার্মিনাল ও কাউন্টারগুলোতে যাত্রীদের উপস্থিতি বেড়েছে। তবে গুইমারার বাজার ও আশপাশের দোকানপাট এখনো পুরোপুরি খোলা হয়নি। জেলায় অবরোধ না থাকলেও সেনা, বিজিবি ও পুলিশের বাড়তি টহল অব্যাহত রয়েছে।
শারদীয় দুর্গোৎসব এবং প্রশাসনের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে জুম্ম ছাত্র-জনতা নামের পাহাড়ি সংগঠন শনিবার থেকে শুরু করা অবরোধ ৫ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করেছে।
রোববার গুইমারায় দুইপক্ষের সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগে ৯০টির বেশি ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও স্থাপনা পুড়ে গেছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ মারমাদের। কয়েকটি সরকারি ও বেসরকারি অফিসও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
একজন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য কংহ্লাউ মারমা এবং কুচিয়া মাছ ব্যবসায়ী থুইসাপ্রু মারমা তিন সন্তান নিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। অবসরপ্রাপ্ত পুলিশের স্ত্রী নুর নাহার বেগমসহ আরও অনেকে সহায় সম্পদ হারিয়ে নিরূপায় অবস্থায় রয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আইরিন আখতার বলেন, ‘ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি উন্নয়নের কাজ চলছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজ নেওয়া এবং তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। বিশেষ বরাদ্দের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হবে।’
তবে, গুইমারায় ২৮ সেপ্টেম্বর সংঘটিত ঘটনায় জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করে বিবৃতি দিয়েছে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)। সংগঠনটি জাতিসংঘের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছে।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়িতে মারমা জনগোষ্ঠীর স্কুলছাত্রী দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় অজ্ঞাত তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। পরে এই মামলায় শয়ন শীল নামে একজনকে আটক করে রিমান্ডে নেওয়া হয়। অন্য দুই আসামি গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ, অবরোধের সহিংসতায় মারা যায় তিনজন। পরে এ ঘটনায় জারি করা হয় ১৪৪ ধারা। চার দিনের অবরোধে অচল হয় জেলার জনজীবন।


