জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফেরত পাঠাতে সম্প্রতি ভারতকে চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর রমনায় বিস মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেমিনারের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।
তিনি জানান, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ ভারতে পালিয়ে থাকা বিভিন্ন আসামিকে ফেরাতে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পৃথক পৃথক চিঠি পাঠানো হয়েছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের প্রেক্ষিতে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৬ নভেম্বর বাংলাদেশ সরকার শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানকে প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় আনার অনুরোধ জানিয়ে প্রথম একটি চিঠি পাঠিয়েছিল।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নির্দেশনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আসাদুজ্জামান খানকে ফেরত চেয়ে পুনরায় চিঠি পাঠানো হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আসাদুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী বিচার প্রক্রিয়া চলছে। একজন পলাতক আসামি হিসেবে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় সব চিঠি পাঠানো হয়েছে। আমরা শুরু থেকেই স্পষ্ট করে বলছি, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক নীতিমালা, প্রটোকল এবং বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তি (এক্সট্রাডিশন ট্রিটি) মেনে আসাদুজ্জামান খান কামাল, শেখ হাসিনাসহ সকল আসামিকে ফেরত এনে বিচার সম্পন্ন করা হবে।’
চিঠিটি কবে পাঠানো হয়েছে জানতে চাওয়া হলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, এটি অতি সম্প্রতি পাঠানো হয়েছে এবং তা বিশেষভাবে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কেন্দ্র করেই লেখা।
তিনি উল্লেখ করেন, আইন মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে যথাযথ প্রক্রিয়া বজায় রেখে কাজ করে যাচ্ছে। এটি একটি ধারাবাহিক কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়া, যার মূল লক্ষ্য হলো সাজাপ্রাপ্ত ও বিচারপ্রার্থী পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে আইনানুগ শাস্তি নিশ্চিত করা, যা দেশের সর্বস্তরের জনগণেরও মূল দাবি।
ভারতের কাছ থেকে কেমন প্রতিক্রিয়া প্রত্যাশা করা হচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে চিঠি ইতোমধ্যে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। আমরা ইতিবাচক সাড়ার অপেক্ষায় আছি এবং আশা করি ভারত দ্বিপক্ষীয় বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে জোরদার ও অক্ষুণ্ণ রাখতে নিজের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।
তিনি আরও জানান, ভারতে অবস্থানরত চিহ্নিত পলাতক আসামিদের ক্ষেত্রে সাধারণত পৃথক পৃথকভাবেই প্রত্যর্পণের নথি পাঠায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।


