দেশের বিভিন্ন জেলায় হামের সংক্রমণ বাড়ছে উদ্বেগজনক হারে। বিশেষ করে ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও কুষ্টিয়ায় পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। গত ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইলে এ রোগের উপসর্গ নিয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে কুষ্টিয়ায় আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহে হামের সংক্রমণ কমার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ নেই। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৯ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
গত ১৭ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত জেলায় মোট ৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে ১৮ জন শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন ওয়ার্ডে ৬৭ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। ১৭ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ১৮১ জন শিশু ভর্তি হয়েছিল, যার মধ্যে ১১২ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
হামের চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল দলের সহকারী রেজিস্ট্রার মো. মাজহারুল আমিন বলেন, রোগীর সংখ্যা ওঠানামা করলেও পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। যেসব শিশু টিকা পায়নি বা বয়স কম, তারা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান জানান, আক্রান্ত শিশুদের জন্য আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু রয়েছে। জেলার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ফয়সাল আহমেদ বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ‘ফিভার কর্নার’ চালু করে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
টাঙ্গাইল
টাঙ্গাইলেও হামের সংক্রমণ বাড়ছে। শুক্রবার ভোরে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মাস বয়সী শিশুকন্যা সাফার মৃত্যু হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার একই হাসপাতালে ১৩ মাস বয়সী আরেক শিশু সায়ফালের মৃত্যু হয়।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৮ শিশু ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে ২৩ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।
শিশু বিশেষজ্ঞ সাইফুল ইসলাম বলেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। তাই টিকাদান নিশ্চিত করা, আক্রান্তদের আলাদা রাখা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা জরুরি।
হাসপাতালের উপ-পরিচালক খন্দকার সাদিকুর রহমান জানান, রোগীর চাপ বাড়ায় ডায়রিয়া ওয়ার্ডকেও হামের চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
কুষ্টিয়া
কুষ্টিয়ায় হামের উপসর্গ নিয়ে আফরান নামে আট মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আফরান কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ভাদালিয়া গ্রামের আল আমিনের ছেলে।
শিশুটির বাবা আল আমিন জানান, ঠান্ডা, জ্বর ও শরীরে লালচে দাগ দেখা দিলে প্রথমে স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। পরে তার পরামর্শে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার শিশুটির অবস্থার অবনতি হলেও সময়মতো সেবা পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে হাসপাতালের উপপরিচালক এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ভর্তির দিন থেকেই শিশুটির অবস্থা গুরুতর ছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে স্বজনেরা সেখানে যাননি। এরপরও হাসপাতালে সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। শুক্রবার ভোরে শিশুটির মৃত্যু হয়।


