জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পলাতক আসামি অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেনকে (৭৭) গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
বৃহস্পতিবার ডিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে বুধবার রাতে বনানীর একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিবি জানায়, জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর থেকে মোজাফফর হোসেন বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন। বিশ্বস্ত সূত্র ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণের মাধ্যমে গোয়েন্দা বিভাগ তার অবস্থান শনাক্ত করে। ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলামের সার্বিক দিকনির্দেশনায় অভিযানটি পরিচালিত হয়। গত বুধবার রাত ১০টা দিকে বনানীর বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবির একটি দল। জিজ্ঞাসাবাদে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে আর্মড ফোর্সেস ডিভিশনকে জানানো হয়।
আইনি প্রক্রিয়া মেনে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে ঢাকা সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মোজাফফর হোসেনের বিরুদ্ধে ৪৫ বছর আগে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোররাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নৃশংসভাবে হত্যা করেন।
জিয়া আগের দিন চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন দলের স্থানীয় বিরোধ মেটাতে। অভিযোগ আছে, সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেনই সে সময় প্রথম জিয়াউর রহমানকে শনাক্ত করেছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের পর সেনাবাহিনীর অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ২৪ পদাতিক ডিভিশনের তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে মঞ্জুর নিহত হন। বিদ্রোহে জড়িত থাকার অভিযোগে সামরিক আদালতে সেনা কর্মকর্তাদের বিচার করা হয়। ১৩ জন সেনা কর্মকর্তার ফাঁসি কার্যকর হয়। অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড দেওয়া হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, জিয়াউর রহমান হত্যার পর মোজাফফর পালিয়ে যান। তাকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। তিনি ভারতে আত্মগোপনে ছিলেন। একপর্যায়ে তিনি ছদ্মনাম ব্যবহার করে সীমান্ত অতিক্রম করে যাতায়াত করতেন।


