কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বাবার অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র থেকে ছোঁড়া গুলিতে এক শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা আব্দুর মবিনকে আটক করেছে ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)।
পুলিশ জানিয়েছে, আব্দুর মবিন সশ্বস্ত্র রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের (আরএসও) সদস্য। ঘটনার পর নিজের দায় এড়াতে তিনি ‘আরসা সদস্যদের হামলার’ মিথ্যা নাটক সাজানোর চেষ্টা করেছিলেন।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উখিয়ার কুতুপালং বালুরমাঠ পুলিশ ক্যাম্পের আওতাধীন ক্যাম্প-২ (ওয়েস্ট)-এর ই-০৬ ব্লকে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ শিশুর নাম মোহাম্মদ আরমান (১১ মাস)। বর্তমানে সে কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ১৪ এপিবিএনের অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ সিরাজ আমীন বলেন, ‘রোহিঙ্গা আব্দুর মবিন তার নিজ শেডে অবস্থানের সময় অসাবধানতাবশত তার হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র থেকে এক রাউন্ড গুলি বের হয়ে যায়। সেই গুলিটি সরাসরি তার শিশুপুত্র মোহাম্মদ আরমানের পেটে গিয়ে লাগে।’
তিনি বলেন, ‘ঘটনার পরপরই আব্দুর মবিন নিজেকে বাঁচানোর জন্য এলাকায় অপপ্রচার চালায় যে, আরসা সদস্যরা তার ওপর হামলা করেছে এবং সে নিজেও গুলিবিদ্ধ হয়েছে। খবর পেয়ে এপিবিএনের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধান চালান। অনুসন্ধানে তার শরীরে কোনো ধরনের গুলির আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মূলত নিজের অপরাধ আড়াল করতেই সে আরসার সদস্যদের হামলার বানোয়াট গল্প ফেঁদেছিল। প্রকৃতপক্ষে তার নিজের অস্ত্রের গুলিতেই তার শিশু সন্তান গুরুতর আহত হয়েছে।’
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গুলির শব্দ শুনে আশপাশের রোহিঙ্গারা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে দ্রুত কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে সে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
১৪ এপিবিএন জানায়, ঘটনার পরপরই পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে এমএসএফ হাসপাতালের সামনে থেকে অভিযুক্ত আব্দুর মবিনকে আটক করে।
অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ সিরাজ আমীন জানান, আটককৃত আব্দুর মবিনের শেডে ব্যবহৃত অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রটি উদ্ধারে বিশেষ তল্লাশি চলছে। অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। বর্তমানে ক্যাম্পের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক এবং পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে ১৪ এপিবিএনের এ কর্মকর্তা।


