রাজধানী ঢাকার মগবাজারে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে যাওয়া সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
গত মঙ্গলবার রাতে হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে থাকা ছয় নবজাতক মারা গেলে বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার হাসপাতাল পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। পরিদর্শনে শেষে হাসপাতালের কলেজ ভবনের আটতলায় একটি বেকারি কারখানা পাওয়ার কথা জানান তিনি। বেকারি কারখানা থেকে গ্যাস নির্গত হয়ে নবজাতকদের ক্ষতি করছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান মন্ত্রী।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হাসপাতাল পরিদর্শন ও বেকারির সন্ধান পাওয়ার খবর পেয়ে সন্ধ্যার দিকে হাসপাতালটিতে যান বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকর্মীরা। তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী পরিদর্শন শেষে চলে যাওয়ার পরপরই হাসপাতালটির সবগুলো প্রবেশপথ বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।
গণমাধ্যমকর্মীরা ভেতরে প্রবেশ করতে চাইলে হাসপাতালটির নিরাপত্তাকর্মীরা বাধা দেন। একপর্যায়ে দুইপক্ষ বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়লে পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা পরিস্থিতি সামাল দিতে যান।
তাদের উপস্থিতিতেই গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর চড়াও হন হাসপাতালটির নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। সাংবাদিকদের ধাওয়া দিয়ে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া ও কয়েকজনকে মারধরের ঘটনাও ঘটে।
পরে শনিবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আদ-দ্বীন হাসপাতাল জানায়, নবজাতকদের মৃত্যুর ঘটনার পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, পুলিশ, র্যাবসহ বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে এবং সরকার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের অব্যাহত পরিদর্শন এবং বিপুলসংখ্যক সাংবাদিকের উপস্থিতির কারণে হাসপাতালের সেবাদানকারী কর্মীরা কয়েকদিন ধরে মানসিক চাপের মধ্যে দায়িত্ব পালন করছেন। এতে হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও বিভিন্ন সেবা নিতে আসা ব্যক্তিদেরও অসুবিধার মুখে পড়তে হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শনিবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। মন্ত্রীর হাসপাতাল ত্যাগের পর বিপুলসংখ্যক সাংবাদিক হাসপাতালে প্রবেশের চেষ্টা করলে চিকিৎসাধীন রোগীদের স্বার্থে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের প্রবেশ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করে।
আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, হাসপাতালের কর্মীদের সঙ্গে সাংবাদিকদের কথোপকথনের একপর্যায়ে একজন সাংবাদিক পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ‘ঝাড়ুদার’ বলে সম্বোধন করেন। এতে কর্মীরা অপমানিত বোধ করেন এবং উত্তেজিত হয়ে সাংবাদিকদের হাসপাতাল ত্যাগের অনুরোধ জানান। সে সময় উপস্থিত হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং কর্মীদের নিবৃত্ত করতে উদ্যোগও নেন বলে দাবি কর্তৃপক্ষের।
আদ্-দ্বীন হাসপাতালে জানায়, তারা সব সময় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে কাজ করে আসছে। তারপরও ৩০ মে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, হাসপাতাল কর্মীদের অনিচ্ছাকৃত আচরণে গণমাধ্যমকর্মীদের মনে কোনো কষ্টের সৃষ্টি হয়ে থাকলে তারা বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।


