ঝিনাইদহের শৈলকূপায় গড়াই নদীতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত কয়েক বছরে উপজেলার সারুটিয়া ও ধলহরাচন্দ্র ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রামের শত শত বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। চলতি বর্ষায় নদীর নতুন তিনটি পয়েন্টে ভাঙন শুরু হওয়ায় নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সারুটিয়া ইউনিয়নের বুরুড়িয়া গ্রামের কয়েক শ বিঘা ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। ভাঙন ঠেকাতে কয়েকটি স্থানে পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ ফেলেছে। তবু অনেক পরিবার বসতভিটা ছেড়ে অন্য এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে।
এদিকে মাজদিয়া, উলুবাড়িয়া, বন্দেখালী ও কাশিনাথপুর ঘাট এলাকায়ও নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে গড়াই নদীর পানি বেড়ে তীব্র স্রোতের সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে উলুবাড়িয়া গ্রামের নদীঘেঁষা কয়েকটি স্থানের প্রায় শতাধিক বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। জমি হারিয়ে এখন বসতভিটা নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয়রা।
ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক হাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমাদের ফসলি জমি নদীতে চলে যাচ্ছে। বহু বছর ধরে এ ভাঙন চলছে। সরকার আগে ব্যবস্থা নিলে এমন পরিস্থিতি হতো না। নতুন সরকারের কাছে দ্রুত ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছি।’
স্থানীয় কৃষক আলম খান বলেন, ‘বসতভিটা ছাড়া আর কোনো জমি নেই। সব গড়াই নদী গিলে খেয়েছে। এখন বসতভিটাও চলে গেলে আমরা কোথায় যাব?’
উলুবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. শাহিন আলম জানান, গত ১০ বছরে গড়াই নদীর ভাঙনে বুরুড়িয়া ও উলুবাড়িয়া গ্রামের অনেক জমি নদীর বিপরীত পাড়ে চলে গেছে। নদী ভাঙতে ভাঙতে প্রায় আধা কিলোমিটার দক্ষিণে সরে এসেছে। ভাঙনের আতঙ্কে অনেক পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। সীমিত আকারে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও ভাঙন ঠেকানো যাচ্ছে না।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, শৈলকূপার সারুটিয়া ইউনিয়নের বুরুড়িয়া এবং ধলহরাচন্দ্র ইউনিয়নের উলুবাড়িয়া, মাজদিয়া, বন্দেখালী ও কাশিনাথপুর ঘাট এলাকায় অন্তত সাড়ে ৫ কিলোমিটার নদীতীরে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি পয়েন্টে ভাঙন সবচেয়ে তীব্র। কয়েক বছর ধরে এসব স্থানে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও অন্তত ৬০০ একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার দাস বলেন, ‘এক দশকের বেশি সময় ধরে গড়াই নদীতে ভাঙন চলছে। নদীর গতিপথ পরিবর্তনের কারণে শৈলকূপার কয়েকটি গ্রামের অনেক জমি নদীগর্ভে চলে গেছে।’
তিনি বলেন, ‘ভাঙন রোধে স্থায়ী প্রকল্প প্রণয়ন ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের অনুমোদন পাওয়া গেছে। যাচাইয়ের কাজ শেষ পর্যায়ে। আগামী শীত মৌসুমে ভাঙনকবলিত এলাকায় টেকসই ব্লকের বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করা যাবে বলে আশা করছি।’


