বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর প্রতি পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। বুধবার মরক্কোর রাজধানী রাবাতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ফিফার শীর্ষ নেতৃত্ব সর্বসম্মতিক্রমে তার নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে।
বৈঠকে ইনফান্তিনোর পাশাপাশি ফিফার মহাসচিব ম্যাথিয়াস গ্রাফস্ট্রম ও ব্যবস্থাপনা বোর্ডের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে প্রকাশিত বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। একই সঙ্গে ফিফা স্বীকার করেছে, প্রত্যাহার করা ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ প্রস্তাবটি যেভাবে পরিচালনা করা হয়েছে, তা আরও ভালোভাবে করা যেত।
ফিফা জানায়, সাম্প্রতিক সমালোচনা ও বিতর্কের মধ্যেও ইনফান্তিনোর নেতৃত্বে বৈশ্বিক ফুটবলের উন্নয়ন, নতুন বাজার সম্প্রসারণ এবং সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা জোরদারের কাজ চলমান। সংস্থাটির দাবি, সব সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসনের নীতির ভিত্তিতে পরিচালিত হয়।
আফ্রিকার বিভিন্ন ফুটবল প্রশাসক ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। ২০২৭ সালের মার্চে অনুষ্ঠিতব্য ফিফা সভাপতির নির্বাচন সামনে রেখে তিনি আফ্রিকার ৫৪টি সদস্য দেশের সমর্থন ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। তবে আফ্রিকার ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনফেডারেশন অব আফ্রিকান ফুটবল (সিএএফ) এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো অবস্থান জানায়নি।
ওশেনিয়া অঞ্চলের ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ওশেনিয়া ফুটবল কনফেডারেশনের (ওএফসি) নির্বাহী কমিটি আগামী বুধবার বৈঠকে বসবে। সেখানে এ বিষয়ে তাদের অবস্থান নির্ধারণ করা হবে।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি সদস্য দেশের ভোটের মূল্য সমান। তাই বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের তলানিতে থাকা সান মারিনোর ভোটের মূল্য যেমন এক, বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিল, জার্মানি, আর্জেন্টিনা বা স্পেনের ভোটের মূল্যও তেমনই এক।
ইনফান্তিনো ২০৩১ সাল পর্যন্ত সভাপতির দায়িত্ব বাড়ানোর লক্ষ্যে নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী। এখন পর্যন্ত তার বিপক্ষে শক্ত কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রকাশ্যে না আসায় বিষয়টি তার জন্য সুবিধাজনক বলে মনে করা হচ্ছে।
জর্ডান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রিন্স আলী বিন আল হুসেইন ইনফান্তিনোর সমালোচনা করে অভিযোগ করেছেন, সমর্থনের বিনিময়ে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের প্রস্তাব দিয়ে ফিফা ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘আগেও আমরা তাকে সমর্থন করিনি, এখনও করব না।’
তবে এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ফিফা। সংস্থাটির এক মুখপাত্র বলেন, ‘২০৩০ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের আয়োজক নিয়ে ইনফান্তিনো কোনো প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলে যে দাবি করা হচ্ছে, তা মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর।’ তিনি জানান, এ বিষয়ে যথাসময়ে ফিফাই আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেবে।
ফিফা বলেছে, বিশ্ব ফুটবলের অগ্রগতির জন্য ইনফান্তিনো ও সংস্থাটির প্রশাসন একযোগে কাজ চালিয়ে যাবে। ভবিষ্যতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নেতৃত্ব ঐক্যবদ্ধ থাকবে। সংস্থাটির মতে, সাম্প্রতিক বিতর্কের মধ্যেও ইনফান্তিনোর প্রতি এই সমর্থন তার নেতৃত্বের প্রতি ফিফার অব্যাহত আস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার প্রতিফলন।


