ইরানের নির্বাসিত ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভি ভালো মানুষ হলেও তিনি শেষ পর্যন্ত ক্ষমতা নিতে পারবেন কিনা- তা নিয়ে সন্দিহান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
স্থানীয় সময় বুধবার ওয়াশিংটনের ওভাল অফিস থেকে বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রেজা পাহলভির বিষয়ে কথা বলেন ট্রাম্প।
তিনি বলেন, ‘ইরানের বিরোধী নেতা রেজা পাহলভি “খুবই ভালো মানুষ বলে মনে হয়”, তবে তিনি ইরানের ভেতরে যথেষ্ট সমর্থন জোগাড় করে শেষ পর্যন্ত ক্ষমতা নিতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে আমি অনিশ্চিত।’
গত সপ্তাহে রেজা পাহলভির সঙ্গে বৈঠকের কোনো সম্ভাবনা নেই জানানোর পর তার প্রতি পূর্ণ সমর্থন দিতে অনিচ্ছা জানালেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘তিনি নিজের দেশে ফিরে গেলে কেমন গ্রহণযোগ্যতা পাবেন, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। আমরা এখনো সেই পর্যায়ে পৌঁছাইনি। আমি জানি না তার দেশ তার নেতৃত্ব গ্রহণ করবে কি না। আর যদি করে, তবে সেটা আমার কাছে একেবারেই ঠিক থাকবে।’
একান্ত ওই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, আয়তুল্লাহ আলী খামেনির নেতৃত্বে ইরানের বর্তমান ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ার একটি সম্ভাবনা আছে। ‘বাস্তবতা হলো “যেকোনো শাসনব্যবস্থাই ব্যর্থ হতে পারে।” কাজেই সাধারণ জনগণের বিক্ষোভে তেহরানেও সরকার পতনের সম্ভাবনা আছে’, যোগ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ইরানের জনগণ নিজেদের অধিকার ফিরে পেতে চায় মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখবে। তারা ন্যায়ের পক্ষে আন্দোলন করছে।’
‘ইরানের বর্তমান সরকার ক্ষমতাচ্যুত হবে কি হবে না, নিশ্চিত নই… তবে এই সময়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।’
গত ২৮ ডিসেম্বর অর্থনৈতিক মন্দা, তীব্র মূল্যস্ফীতি, ডলারের বিপরীতে মুদ্রার দরপতনের প্রতিবাদে তেহরানে বিক্ষোভ শুরু করেন ইরানের জনগণ। ধীরে ধীরে তা গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। ওই বিক্ষোভ দমনে বল প্রয়োগ করায় তা সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে রূপ নেয়।
বিক্ষোভের মধ্যে জানুয়ারির শুরুতে বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে বার্তা দেন যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত ইরানের শেষ রাজা মোহাম্মদ শাহ রেজা পাহলভির ছেলে ও ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভি। তাদের বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ইরানিরা তাদের স্বাধীনতা দাবি করেছে। তাদের কণ্ঠস্বর ও ইচ্ছা দমন করা যাবে না। আমার সাহসী স্বদেশবাসীদের কণ্ঠস্বর যেন নীরব করা না হয়।’
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবে পাহলভির বাবা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে পরিবার নিয়ে ইরান ছেড়ে যান। এরপর যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নেন ৬৫ বছর বয়সী ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভি। তবে ইরানের সরকারবিরোধী শক্তি নানা দল ও আদর্শিক গোষ্ঠীতে বিভক্ত। কিছু রাজতন্ত্রপন্থি পাহলভিকে সমর্থনের কথা জানালেও বর্তমান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ভেতরে তাদের সুসংগঠিত উপস্থিতি খুবই সীমিত।


