সদ্য সাবেক উপাচার্য আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে পঞ্চম দিনের মতো আন্দোলন চলছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট)। শনিবার দিনভর বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে সকাল থেকে গ্রাফিতি আঁকার পাশাপাশি দুপুরে লাল কার্ড প্রদর্শন করে নতুন উপাচার্যের নিয়োগ ও যোগদানের প্রতিবাদ জানান তারা।
শনিবার দুপুরে লাল কার্ড প্রদর্শন করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় নতুন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলমের নিয়োগ ও যোগদানের প্রতিবাদ জানান তারা।
এর আগে, শনিবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে দেয়ালে গ্রাফিতি আঁকা শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এতে অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবি এবং ৫৬ দিনের মাথায় উপাচার্য পরিবর্তনের প্রতিবাদ তুলে ধরেন তারা।
নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মুসাররাত তাবাসসুম হৃদি বলেন, ‘অনলাইনে নতুন উপাচার্য নিয়োগের ঘটনায় আমরা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছি। আমাদের আন্দোলনকে ৩০ থেকে ৩৫ জনের আন্দোলন বলে যেভাবে উল্লেখ করা হচ্ছে, আমরা মনে করি এতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অবমাননা করা হচ্ছে। এর প্রতিবাদেই আমরা গ্রাফিতি আঁকছি এবং আজ লাল কার্ড প্রদর্শন করেছি। অধ্যাপক সায়েম স্যারকে আবার উপাচার্য হিসেবে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।’

এর আগে, অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে সর্বাত্মক শাটডাউন, গণ-অবস্থান, মানববন্ধন, গণস্বাক্ষর, বিক্ষোভ মিছিল ও মশাল মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার নতুন উপাচার্যের যোগদান প্রত্যাখ্যান করে বিক্ষোভ মিছিলও করেন তাঁরা।
এদিকে একই দাবিতে রোববার থেকে পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে চুয়েট শিক্ষক সমিতি। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মসূচির ঘোষণায় বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংকট আরও বিস্তৃত হয়েছে।
গত ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে ওই রাত থেকেই আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। পরদিন থেকে শুরু হয় সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি। আন্দোলনের কারণে চুয়েটে ক্লাস-পরীক্ষাসহ একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।


