চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) চলমান আন্দোলন বড় পরিসরের নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম।
তার দাবি, আন্দোলনে মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ জন শিক্ষার্থী ছিলেন। ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের তালা খুলে দিয়েছেন এবং তাকে সাদরে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন।
শুক্রবার সন্ধ্যায় টাইমসকে টেলিফোনে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম এসব কথা বলেন।
চুয়েট ভিসি জানান, ইতোমধ্যে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানপত্র জমা দিয়েছেন। বর্তমানে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতিও অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে এসেছে।
শরীফুল আলম বলেন, ‘শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন এবং সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রতিনিধি দলের সঙ্গেও বিভিন্ন পর্যায়ে আলাপ-আলোচনা চলছে।’
ক্যাম্পাসের সামগ্রিক নিরাপত্তা জোরদারে সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে উল্লেখ করে ভিসি বলেন, ‘সবকিছু মিলে আমি কাঙ্ক্ষিত ও উপযুক্ত সময়ের মধ্যে স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসে যাব।’
তিনি বলেন, ‘আমার মূল লক্ষ্য হলো সবাইকে নিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক অ্যাকাডেমিক পরিবেশ তৈরি করা, যেন চুয়েট একটি অনন্য ও ভালো মানের প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিশ্বে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে।’
চুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন কমিটির সদস্য হিসেবে এই প্রতিষ্ঠানের প্রতি তার আলাদা আবেগ ও ভালোবাসা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘এটি আমারও ক্যাম্পাস। আমি এখানে অনেক আগে ছাত্র ছিলাম এবং বিভিন্ন কমিটিতে অভিজ্ঞ সদস্য হিসেবে কাজ করেছি। বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে আমার ভালো যোগাযোগ রয়েছে। তারা এবং তাদের বাইরেও অনেক শিক্ষক আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং সহযোগিতা করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।’
ক্যাম্পাসে চলমান বিক্ষোভ প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আন্দোলনের পরিধিটি অতটা বড় নয়। বিক্ষোভে মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ জন শিক্ষার্থী ছিল। শিক্ষার্থীরা ইতোমধ্যে ক্যাম্পাসের তালা খুলে দিয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী আমার জন্য অপেক্ষা করছে এবং স্বাগতম জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।’
ক্যাম্পাসে যোগদানের সুনির্দিষ্ট তারিখ বা সময়সীমা সম্পর্কে জানতে চাইলে ভিসি জানান, রোববারের আগেই বা যেকোনো উপযুক্ত সময়ে তিনি চুয়েট ক্যাম্পাসে সশরীরে উপস্থিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেন।
উল্লেখ্য, অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবিতে গত ২১ সেপ্টেম্বর থেকে চুয়েটে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। এরই মধ্যে সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন তারা। একই দাবিতে চুয়েট শিক্ষক সমিতি রোববার থেকে পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে।
আরও পড়ুন>>>
উপাচার্য নিয়োগ: পূর্ণ কর্মবিরতিতে যাচ্ছে চুয়েট অফিসার্স অ্যাসেসিয়েশন
চুয়েট উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে শিক্ষকরা
উপাচার্য পরিবর্তনের প্রতিবাদে চুয়েটে সর্বাত্মক শাটডাউন


