রাজবাড়ী সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের উড়াকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পদ্মা নদীতে দেখা যাচ্ছে বিশাল আকারের কুমির। মাঝেমধ্যেই কুমির ভেসে ওঠায় নদী পাড়ের গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নদীর পাড়ে কুমির দেখতে ভিড় করছেন অসংখ্য মানুষ। যদিও কুমিরের বিষয়ে জনসাধারণকে সচেতন করতে সেখানে টানিয়ে দেওয়া হয়েছে নির্দেশনা। স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা শহরজুড়ে চলছে মাইকিং।
বুধবার বিকালে উড়াকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পদ্মা নদীর পাড়ে গিয়ে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, স্থানীয় গ্রামবাসীসহ জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে এসেছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
উড়াকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমি মঙ্গলবার নিজে কুমিরটিকে নদীতে ভাসতে দেখেছি। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কুমিরের বিষয়ে সচেতন করছি। কেউ যেন নদীতে না নামে। প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানাই অতিদ্রুত যেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’
স্থানীয় বাসিন্দা মাসুদ শেখ বলেন, ‘নদী তীরবর্তী এই এলাকায় প্রতিদিন শত শত মানুষ নদীতে গোসল করে থাকেন। এ ছাড়া জেলেরা মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। হঠাৎ কুমির দেখা পেয়ে সবার মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ নদীতে নামতে সাহস পাচ্ছেন না।’
শফিকুল হোসেন নামের এক যুবক বলেন, ‘মঙ্গলবার দুপুর ২টার কয়েক মিনিট আগে কুমিরটি ভেসে ওঠে। ওই সময় আমি নিজে কুমিরটি দেখেছি। তখন সেখানে থাকা অন্যদের চিৎকারে কুমিরটি ডুব দেয়।’ তবে ওইদিন বেলা ১১টা ও দুপুর ১২টার দিকেও সেখানে কুমিরটি দেখেছেন বলে জানান অনেকেই।
নদী পাড়ে ঘুরতে আসা করিম সেখ বলেন, ‘এই এলাকার শিশুসহ নারী-পুরুষ এখানে নিয়মিত গোসল, কাপড় ও বাসন ধোয়াসহ দৈনন্দিন নানা কাজ করেন। সবাই এখন ভয়ে আছেন। দ্রুত কুমিরটি ধরে অন্যস্থানে নিয়ে যেতে সরকারকে অনুরোধ করছি।’
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলার বন বিভাগ কর্মকর্তা খন্দকার আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘কুমিরের সংবাদ পেয়ে মঙ্গলবার আমরা ঘটনাস্থলে যাই। বুধবার সকাল থেকে আমাদের টিম ঘটনাস্থলে ছিল। জনসচেতনতায় সাইনবোর্ড টানানো হয়েছে। নদীতে নামতে নিষেধ করে মাইকিং চলছে। খুলনা বিভাগীয় দপ্তরে বিষয়টি জানানো হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’


