প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের প্রথম ১৮০ দিনে মালদ্বীপে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণ, অধিকার সুরক্ষা এবং দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছে। এই সময়ে হাইকমিশনের কনস্যুলার, শ্রম ও কল্যাণ উইংয়ের মাধ্যমে ৪৬ হাজারেরও বেশি সেবা দিয়েছে। পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও জনকূটনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে ৫৫০টিরও বেশি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশন এক বিশেষ সংলাপ ও মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানায়। ‘সেবা-সম্পৃক্ততা-সংলাপ — আপনার কথা, আগামীর পথ’ প্রতিপাদ্যে ওই সভায় প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনার পাশাপাশি বিগত ছয় মাসের কার্যক্রম তুলে ধরা হয়।
হাইকমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিএনপি সরকারের প্রথম ১৮০ দিনে কনস্যুলার সেবার মাধ্যমে ৩৪ হাজার ৪৩০টি এবং শ্রম ও কল্যাণ উইংয়ের মাধ্যমে ১১ হাজার ৮৩৩টি নথিভুক্ত সেবা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৮৮৪টি পাসপোর্ট আবেদন ও বায়োমেট্রিক গ্রহণ, সমসংখ্যক সার্ভার আপলোড, ৩ হাজার ৫৯৪টি নতুন পাসপোর্ট প্রক্রিয়াকরণ, ১৭৫টি হারানো পাসপোর্টের সমস্যা সমাধান, ৩৩৩টি ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদন এবং বিমানবন্দরে জরুরি পরিস্থিতিতে থাকা নাগরিকদের বিশেষ সহায়তা দেওয়া অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এ ছাড়া শ্রম ও কল্যাণ উইংয়ের মাধ্যমে ৪২৫টি স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তনের আউটপাস, ১৫৫টি ডিটেনশন আউটপাস, ১৯২টি ওয়েজ আর্নার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ড কার্ড প্রদান এবং ৯৯৪টি ভিসা সত্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রবাসে মর্মান্তিক মৃত্যুর শিকার হওয়া ৪২ জন বাংলাদেশি নাগরিকের মরদেহ সসম্মানে দেশে পাঠানোর প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতা দিয়েছে বাংলাদেশ হাইকমিশন।
বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নেও গত ছয় মাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে হাইকমিশন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শ্রম ও কর্মসংস্থান, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন, নীল অর্থনীতি এবং প্রতিরক্ষা খাতের মতো ১৫টিরও বেশি নতুন সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র নিয়ে দ্বিপাক্ষিক কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এর অংশ হিসেবে প্রায় ৮০ জন মালদ্বীপের শিক্ষার্থীকে বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে এবং দেশটির পুলিশ ও অন্যান্য পেশাজীবীদের জন্য বাংলাদেশে বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এ ছাড়া চিকিৎসক, নার্স, শিক্ষক, প্রকৌশলীসহ দক্ষ পেশাজীবী এবং সাধারণ ও আধা-দক্ষ কর্মীদের জন্য মালদ্বীপের শ্রমবাজারে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জোরালো প্রচেষ্টা চলছে।
মালদ্বীপ থেকে বাংলাদেশে বৈধ উপায়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতেও বিশেষ আর্থিক কূটনীতি চালূ করা হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মালদ্বীপ থেকে প্রায় ১১ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ১৪ কোটি ১১ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।
এই প্রবাহকে আরও সমৃদ্ধ করতে মালদ্বীপের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং স্থানীয় ব্যাংকগুলোর সঙ্গে নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাশাপাশি দেশটিতে একটি বাংলাদেশি ব্যাংকের শাখা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে বেশ কিছুটা অগ্রসর হয়েছে।
বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে প্রায় ২০ লাখ মার্কিন ডলারের প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সামুদ্রিক ও বিমান যোগাযোগ চালুর বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে পর্যটন ও বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় মালদ্বীপে প্রায় ২০ হাজার চারা ও বীজ সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশি প্রবাসীরাই মূলত বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের সম্পর্কের সবচেয়ে বড় মানবিক সেতু বলে উল্লেখ করেছেন মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. নাজমুল ইসলাম।
তিনি জানান, প্রবাসীদের প্রতিটি অভিযোগ ও সমস্যাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে সমাধান করা হচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে দ্বীপভিত্তিক সেবা আরও সম্প্রসারণ এবং প্রবাসীদের অধিকার রক্ষায় হাইকমিশনের এই কার্যক্রম আরও গতিশীল করা হবে।
একই সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জলবায়ু, নীল অর্থনীতি, সামুদ্রিক সহযোগিতা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, প্রতিরক্ষা এবং জনকূটনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ-মালদ্বীপ সহযোগিতা আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।


