পাবনায় আবার বিষ প্রয়োগে ৩ কুকুর হত্যার অভিযোগ

পাবনায় আবার বিষ প্রয়োগে ৩ কুকুর হত্যার অভিযোগ
Advertisement
Advertisement

পাবনা শহরে আরও তিনটি কুকুরকে বিষ প্রয়োগে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পাবনা পৌর শহরের কাচারীপাড়ার কদমতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী কুকুর মালিক। তবে পুলিশের দাবি, মামলার শর্তাবলী পুরণ না হওয়ায় মামলা নেওয়া হয়নি।

থানায় দায়ের করা অভিযোগ থেকে জানা যায়, পাবনা শহরের কাচারীপাড়ার কদমতলা এলাকার হারুনর রশিদের পোষা তিনটি কুকুর ছিল। যার মধ্যে দুইটি পুরুষ ও একটি স্ত্রী কুকুর। গত মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে কুকুর তিনটির চিৎকারে ঘুম ভেঙে যায় হারুনর রশিদের।

হারুনর রশিদ জানান, তিনি ঘুম থেকে উঠে দেখেন কুকুর তিনটি যন্ত্রণায় ছটফট করছে। স্থানীয় পশু চিকিৎসককে খবর দিলে তিনি এসে কুকুর তিনটিকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে জানান বিষক্রিয়া হয়েছে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওইদিন সকাল ৮টার দিকে দুইটি এবং দুপুর দেড়টার দিকে আরেকটি কুকুর মারা যায়।

এ ঘটনায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের অভিযুক্ত করে মঙ্গলবার রাতে পাবনা সদর থানায় একটি অভিযোগ দেওয়া হয়। তবে পুলিশ মামলা না নেওয়ার অভিযোগ তোলেন ভুক্তভোগী কুকুর মালিক।

তবে, পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল হোসেন বলেন, ‌‌’মামলা না নেওয়ার কোন কারণ নেই। অভিযোগটি অসমাপ্ত ছিল। মামলার শর্তাবলী পূরণ না হওয়ায় মামলা নেওয়া হয়নি। শর্ত পূরণ করলেই মামলা নেওয়া হবে।’

আরও পড়ুন

কী শর্ত জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘ওই তিনটি কুকুর যে বিষ প্রয়োগে মারা গেছে একজন অথোরাইজ পশু চিকিৎসক সার্টিফাই করতে হবে। সেটা সংযুক্ত করে অভিযোগ দিতে হবে।’

ওসি আরো বলেন, ‘অভিযোগের প্রেক্ষিতে বুধবার সকালে একজন পুলিশ অফিসার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এসেছেন। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে কুকুর হত্যাকারীকে শনাক্তে কাজ চলছে বলে জানান তিনি।’

কুকুর মালিক হারুনর রশিদ বলেন, ‘আমরা পশুপ্রাণী নিয়ে কাজ করছি। থানা মামলা না নেওয়ায় আমরা হতাশ হয়েছি। আমরা চাই কুকুর হত্যাকারীকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক।’

তিনি আরো বলেন, ওই কুকুর তিনটি ছিল আমার আদরের। আমাকে দেখলেই ওরা ছুটে আসত, ওদের দেখে আমার ভালো লাগত। আমি এই হত্যার বিচার চাই।’

এর আগে গত বছরের ৩০ নভেম্বর আটটি জীবিত কুকুরের ছানাকে বস্তাবন্দি করে পানিতে ফেলে হত্যার অভিযোগ ওঠে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশন কর্মকর্তা হাসানুর রহমান নয়নের স্ত্রী নিশি খাতুনের বিরুদ্ধে। পরে এ ঘটনায় মামলা হলে তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

এ বিষয়ে ন্যাচার এন্ড ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন কমিউনিটি পাবনা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান মাহমুদ বলেন, ‘মানুষ দিন দিন মানবিক মূল্যবোধ হারিয়ে ফেলছে। এর আগেও আটটি কুকুরছানা হত্যা করা হলো, এবারও তিনটি কুকুরকে হত্যা করা হলো। খুবই হতাশা আর দু:খজনক।’

আইনের যথাযথ প্রয়োগ দরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কুকুর হত্যায় জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা না গেলে এমন ঘটনা বারবারই ঘটবে।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad