নাটোরে দুই শিশুর ঝগড়াকে কেন্দ্র করে সাত বছর বয়সী এক শিশুর হাতের আঙুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় পুলিশের এক কনস্টেবল ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন পুলিশ কনস্টেবল শাকিল হোসেন ও তার স্ত্রী নাছরিন সুলতানা।
শুক্রবার ভোরে তাদের গ্রেপ্তারের পর আদালতে তোলা হলে বিচারক জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
ভুক্তভোগী শিশুর নাম বায়েজিদ বিন মাহমুদ। তার স্বজনদের দাবি, শিশুটির ডান হাতের একটি আঙুল কেটে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার রাতে নাটোর শহরের বড় হরিশপুর চেয়ারম্যান রোড এলাকায় ব্যাংক কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান মিলনের পরিবার এবং তাদের ভাড়াটিয়া পুলিশ কনস্টেবল শাকিল হোসেন পারিবারিকভাবে পিকনিকের আয়োজন করে। সেখানে কনস্টেবল শাকিলের চার বছর বয়সী মেয়ের সঙ্গে বাড়ির মালিক মিলনের ছেলে বায়েজিদের ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে বিষয়টি পারিবারিকভাবে মীমাংসা করা হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, পরদিন দায়িত্ব পালন শেষে কনস্টেবল শাকিল বাসায় ফিরে বায়েজিদকে জোর করে তার বাসায় ধরে নিয়ে যান। সেখানে স্ত্রী নাছরিন সুলতানার সহযোগিতায় খাটের পায়ার ওপর হাত রেখে ধারালো বটি দিয়ে শিশুটির ডান হাতের শাহাদাত আঙুল বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।
বায়েজিদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে কনস্টেবল শাকিল ও তার স্ত্রী পালিয়ে যান। পরে শিশুটিকে উদ্ধার করে প্রথমে নাটোর জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র চিকিৎসক শামীম আহমেদ বলেন, ‘বর্তমানে ছেলেটির শারীরিক অবস্থা আগের তুলনায় এখন অনেকটা ভালো। তবে কেটে যাওয়া আঙুলটি এমনভাবে বিচ্ছিন্ন হয়েছিল যে, সেটি পুনরায় জোড়া লাগানোর মতো অবস্থায় ছিল না।’
ঘটনার বিষয়ে বায়োজিদের বাবা মাহমুদুল হাসান মিলন বলেন, ‘পুলিশ কনস্টেবল শাকিল এবং তার স্ত্রী মিলে আমার সন্তানকে বাসা থেকে টেনে হিঁচড়ে তার বাসায় নিয়ে যায়। আমার স্ত্রী এবং অপর সন্তান বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের মারধর করা হয়।’
অন্যদিকে কনস্টেবল শাকিলের শালিকা মিমি আক্তারের দাবি, তার বোন ও ভগ্নিপতিকে ফাঁসানো হচ্ছে।
নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর রহমান জানান, শিশুদের কর্মকাণ্ড নিয়ে বড়দের প্রতিক্রিয়ার বিষয়টিকে পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।
তিনি বলেন, ‘কনস্টেবল শাকিল তার কাছে অভিযোগ করেছিলেন যে তার মেয়েকে যৌন নিপীড়ন করা হয়েছে। তবে এই তথ্যের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।’


