ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি (জাপা) আদৌ অংশ নিতে পারবে কিনা, তা এখনো নিশ্চিত নয়। দলটির নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে নানা সংশয় এবং চ্যালেঞ্জ থাকলেও নীরবে প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছেন জাপা নেতারা। জাপা প্রতিষ্ঠাতা হুসেইম মুহাম্মদ এরশাদের ভাই জিএম কাদেরের নেতৃত্বাধীন দলটির প্রার্থী তালিকা ঠিক করতে এরই মধ্যে জেলাগুলোয় সফর করতে শুরু করেছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। দলটির অভ্যন্তরীণ কয়েকটি সূত্র টাইমস অব বাংলাদেশকে নিশ্চিত করেছে যে, একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখাতে জাপাকে নির্বাচনের বাইরে রাখা হবে না বলে অনানুষ্ঠানিক বার্তা দিয়েছে সরকার। পাশাপাশি বিএনপিও জামায়াতকে চাপে রাখার কৌশল এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রশ্নে দলটিকে ভোটের বাইরে রাখার বিপক্ষে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের…
Author: এম. সাইফুল ইসলাম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সর্বোচ্চ সংখ্যক আসনে জয় পেতে চায় জামায়াতে ইসলামী ও এর সমমনা মিত্ররা। সেজন্য নিজেদের সাংগঠনিক শক্তিকে একীভূত করে সমন্বিত প্রার্থী তালিকাও চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই জোটের লক্ষ্য সর্বাধিক সংসদীয় আসন নিশ্চিত করা। আর তাই প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত লাভের চেয়ে ঐক্যকেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। মোট আটটি দল নিয়ে এই জোট গঠিত হলেও জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকেই নির্বাচনী মাঠে প্রভাব ফেলতে সক্ষম মূল শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। দলগুলোর এই সমন্বয়ের খবর এরই মধ্যে তৃণমূলে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। যা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে প্রতিফলিত হবে, এমনটাই প্রত্যাশা জোট নেতাদের। জামায়াতের সঙ্গে এই জোটে রয়েছে মামুনুল…
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে চলমান সংকট মেটাতে না পেরে শেষ পর্যন্ত এর ভার বিবদমান রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর অর্পণ করেছে সরকার। দলগুলো ব্যর্থ হলে, সনদ বাস্তবায়নে সরকার তার নিজের মতো সিদ্ধান্ত নেবে। সোমবার উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি বৈঠকে মতবিরোধ মেটাতে রাজনৈতিক দলগুলোকে সাত দিনের সময় বেঁধে দিয়েছে সরকার। তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সরকারকে জানাবে। সরকারের এ ‘কৌশলী’ অবস্থান রাজনৈতিক ‘দলগুলোকে চাপে’ রাখা ও নিজেদের জন্যে ‘নিরাপদ অবস্থান’ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এ সিদ্ধান্তের ফলে দলগুলো নিজেরা ঐকমত্যে পৌঁছাতে কিছুটা হলেও চাপে থাকবে। তাদের ব্যর্থতায় সরকার পরবর্তীতে কোনো সিদ্ধান্ত নিলে কোনো অভিযোগও তুলতে পারবে না। তবে, সরকারের এ সিদ্ধান্তের পরও দলগুলো এখনো পর্যন্ত…
ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে তৈরি হয়েছে শঙ্কা। এমন শঙ্কার নেপথ্যে রয়েছে দুটি বড় কারণ, জুলাই সনদ বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে চলমান রাজনৈতিক সংকট আর নির্বাচন কমিশনের (ইসি) রোডম্যাপ যথাসময়ে বাস্তবায়ন না হওয়া। তাছাড়া সংশোধিত আরপিও বা জনপ্রতিনিত্ব অধ্যাদেশ নিয়ে বড় দলের প্রবল আপত্তির মতো নানা চ্যালেঞ্জও আছে ইসির সামনে। যদিও অন্তর্বর্তী সরকার বারবার নিশ্চিত করছে, কোনো বাধাই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ঠেকাতে পারবে না। রোডম্যাপ বাস্তবায়নে ‘সর্বোচ্চ দুই-চারদিন’ এদিক ওদিক হতে পারে উল্লেখ করে ইসিও দাবি করেছে, তাতে নির্বাচনে প্রভাব পড়বে না। তারপরও ঠিক আশ্বস্ত হতে পারছেন না বিশ্লেষক ও রাজনৈতিক নেতারা। বিশ্লেষকরা বলছেন, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন করতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোর…
জুলাই সনদের বাস্তবায়ন নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো। আর তাদের এই অবস্থান অন্তর্বর্তী সরকারকে ফেলেছে চাপের মুখে। ফলে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উদ্যোগ দেশে স্থিতিশীলতা আনার পরিবর্তে বরং উসকে দিয়েছে নতুন উত্তেজনা। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী উভয়ই সরকারকে পক্ষপাতদুষ্ট বলে দুষছে। অবশ্য সরকার সবার সম্মতির মাধ্যমে সংস্কার বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আর তাই দলগুলোর আস্থা তৈরির জন্য সকল আলোচনা অব্যাহত রেখেছে। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন যে, এই রাজনৈতিক বিভাজন পরবর্তী নির্বাচনের ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। যে নির্বাচনটি এরই মধ্যে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এ প্রসঙ্গে এক বিশ্লেষক টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘প্রধান দলগুলো যদি নিজেদের বিভেদ কমিয়ে একটি আপোসে…
নানা চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে অবশেষে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দিতে যাচ্ছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ১২টার দিকে কমিশনের সদস্যরা প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনায় যাবেন। সেখানে অন্যান্য উপদেষ্টাদের উপস্থিতিতে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে সুপারিশগুলো পেশ করবেন। সরকার এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন করবে বলে নিশ্চিত করেছে কয়েকটি সূত্র। আর এক্ষেত্রে গুরুত্ব পাচ্ছে সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের আদেশ ও দিনক্ষণ এবং পিআর পদ্ধতিতে আগামী সংসদে উচ্চ গঠন। যদিও এ দুই ইস্যুতেই এখন পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে চরম মতবিরোধ রয়েছে। ফলে, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশই শেষ কথা নয়। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারের সামনে…
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সরকার নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জোর প্রচেষ্টা চালালেও তাতে এখনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ যুক্ত হচ্ছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নসহ এসব চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করতে না পারলে আসছে ফেব্রুয়ারিতে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও রাজনীতিবিদরা। তাদের মতে, নানা অমীমাংসিত বিষয়ে সরকার দ্রুত ও শক্ত পদক্ষেপ না নিলে নির্বাচন পেছানোর আশঙ্কা রয়েছে। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে হলে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে তফসিল ঘোষণা করতে হবে। তবে, নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর সমঝোতা নয়, সরকারের শক্ত…
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ নিজেদের অরাজনৈতিক ইসলামী সংগঠন বলেই দাবি করে। কিন্তু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আগে এসে দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা হাত মেলাতে শুরু করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে। আর এতে দলের মধ্যে স্পষ্ট হতে শুরু করেছে বিভাজন, যা সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে হেফাজতকে। হেফাজত সবসময়ই নিজেদের ধর্মীয় শিক্ষা ও নৈতিক সংস্কারে নিবেদিত একটি সংগঠন হিসেবে তুলে ধরে এসেছে। তবে এখন সংগঠনটি গভীরভাবে রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। সংগঠনের নেতাকর্মীরা বলছেন, অনেক জ্যেষ্ঠ আলেম প্রভাব প্রতিপত্তি বাড়াতে এবং নির্বাচনী সুবিধা আদায়ের জন্য বিভিন্ন ধরনের তৎপরতা চালাচ্ছেন। যদিও শীর্ষ নেতারা যেকোনো সংকটের কথা অস্বীকার করছেন এবং নিজেদের ঐক্য প্রদর্শনে নানা ধরনের দৃশ্যমান…
স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক অগ্রগতি ও নৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্নের সুরাহা হয়নি। রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ, সবার মনেই রয়েছে প্রশ্ন যে, ইসলামপন্থী এই দলটি কি সত্যিই বদলেছে, নাকি এখনও তাদের বিতর্কিত অতীতের ছায়ায় বন্দী হয়ে আছে? বিশ্লেষক ও ইতিহাসবিদরা বলছেন, দেশের মুক্তিযুদ্ধসহ অন্যান্য ঐতিহাসিক ঘটনায় নিজেদের ভূমিকা নিয়ে জামায়াত এখনও পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট ও নিঃশর্ত কোনো বিবৃতি দেয়নি। ভুল স্বীকার করার পরিবর্তে, দলটিকে প্রায়ই দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে দেখা যায়। অনেকের মতে, এই প্রবণতাই দলটিকে সামনে এগোতে দিচ্ছে না। একই সঙ্গে, জামায়াত কখনো ক্ষমতায় এলে তাদের শাসননীতি কেমন হবে তা নিয়েও ব্যাপক…
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত দুটি গুমের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) আত্মসমর্পণ করতে যাচ্ছেন ঢাকা সেনানিবাসে আটক ১৫ সেনা কর্মকর্তা। সেনাবাহিনী সদর দপ্তরের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বুধবার আত্মরমর্পণ করবেন তারা। ট্রাইব্যুনালের একজন আইনজীবী টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘আইনের চোখে সবাই সমান। তাই, প্রসিকিউশন আশা করে যে হেফাজতে থাকা সেনাবাহিনীর সদস্যরা আইনের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আদালতে হাজির হবেন।’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর (প্রশাসন) গাজী এমএইচ তামিম মঙ্গলবার রাতে টাইমসকে বলেন, ‘আটক সেনা কর্মকর্তারা বুধবার ট্রাইব্যুনালে হাজির না হলে, আইন অনুযায়ী তাদের আত্মসমর্পণের জন্য সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।’ ‘অভিযুক্তরা হাজির হয়ে জামিন চাইলে, ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করতে…

