রাজধানীর ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক বাড়িতে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস, আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়েরের আবেদন করা হয়েছে।
মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার জনকে আসামি করার আবেদন জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে তামান্না চৌধুরী প্রিয়াংকা নামে এক নারী বাদী হয়ে এ আবেদন করেন।
আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে মামলাটির বিষয়ে আদেশ পরে দেবেন বলে জানিয়েছেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী এ কে এম শারীফ উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার আবেদনে ইউনূস ও আসিফ নজরুল ছাড়াও সাবেক পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা রেজওয়ানা হাসান, সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম, সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, সাবেক সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী, সাবেক উপদেষ্টা ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, মাহফুজ আলম, শিক্ষার্থী সমন্বয়ক আক্তার হোসেন, সংসদ সদস্য মো. হাসনাত আব্দুল্লাহ, আব্দুল হান্নান মাসউদ, সারজিস আলম, সামান্তা শারমিন, নুসরাত তাবাসসুম, তাসনিম জারা, নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী, আরিফুল ইসলাম আদিব, সালেহ উদ্দিন সিফাত, ইউটিউবার পিনাকী ভট্টাচার্য, ইলিয়াস হোসাইন, কনক সারোয়ার, অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল নুরনবী, তাহরিমা জান্নাত সুরভী, বুলডোজার জোগানদাতা মো. মিলন, ফাহিম আল চৌধুরী ও আবুল কালাম আজাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে বেআইনি উদ্দেশ্যে কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক ভবনের প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে ১ থেকে ৯ নম্বর আসামির উসকানি, দায়িত্বহীনতা ও নির্দেশনায় বুলডোজার ব্যবহার করে ভবনটিতে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ভাঙচুরের সময় রাষ্ট্র ও মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবান দলিলপত্র, সংগৃহীত স্মৃতিচিহ্নসহ বিপুল পরিমাণ সম্পদ লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়। এর ফলে ঐতিহাসিক ভবনটির গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন ও সম্পদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে বলে মামলার আবেদনে দাবি করা হয়েছে।
বাদীপক্ষ দণ্ডবিধির ১৩টি ধারায়, বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ৩/৪ ধারা এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধ আমলে নেওয়ার আবেদন করেছে।
একই সঙ্গে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারিরও আবেদন করা হয়েছে।


