গণপূর্ত অধিদপ্তরে বদলি ও পদায়নের ‘কথিত লটারি’ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, কারসাজি এবং ফ্যাসিস্ট আমলের বিতর্কিত কর্মকর্তাদের পুনর্বাসনের অভিযোগ তুলে এর নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিতর্কিত পদায়ন বাতিলের দাবি জানিয়েছে ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতা মঞ্চ।
বৃহস্পতিবার গণপূর্ত ভবনের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথা বলে লটারির মাধ্যমে বদলি-পদায়ন করা হলেও পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে।
বিশেষ করে ১৮ আগস্ট জারি করা বদলি ও পদায়নের প্রজ্ঞাপনে একাধিক কর্মকর্তার পদায়ন নিয়ে এসব প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বিভিন্ন ক্যাডারের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীসহ কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়নের তালিকা রয়েছে।
সংগঠনটির অভিযোগ, নির্ধারিত প্রশাসনিক বিভাগভিত্তিক লটারির নিয়মের বাইরে বিভিন্ন কর্মকর্তার নাম নির্দিষ্ট লটারি বাক্সে অন্তর্ভুক্ত করে তাদের ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ কর্মস্থলে পুনরায় পদায়নের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। ফলে লটারির স্বচ্ছতা, নাম অন্তর্ভুক্তির মানদণ্ড এবং চূড়ান্ত পদায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রকৌশলীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
মানববন্ধনে ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতা মঞ্চের আহ্বায়ক জাকি সুমন বলেন, ‘লটারির নামে অনিয়ম করে ফ্যাসিস্ট আমলের বিতর্কিত কর্মকর্তাদের পুনর্বাসনের যে অভিযোগ উঠেছে, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।’
তিনি বলেন, লটারির আগে কর্মকর্তাদের নাম কোন প্রক্রিয়ায় নির্ধারণ ও বিভিন্ন লটারি বাক্সে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। কোন কর্মকর্তা কোন প্রশাসনিক বিভাগের জন্য বিবেচিত হওয়ার কথা ছিল এবং কীভাবে তাদের নাম অন্য বিভাগের লটারি বাক্সে গেল–সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করলেই তা স্পষ্ট হবে।
জাকি সুমন আরও বলেন, ‘একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে বদলি ও পদায়ন কোনো সিন্ডিকেট, ব্যক্তিগত প্রভাব কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে হতে পারে না। লটারি যদি স্বচ্ছ হয়ে থাকে, তাহলে লটারির আগে প্রস্তুত করা তালিকা, লটারি পরিচালনার প্রক্রিয়া এবং চূড়ান্ত পদায়নের ভিত্তি প্রকাশ করতে হবে।’
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ঢাকায় গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করা কয়েকজন কর্মকর্তা আবারও ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মস্থলে পদায়ন পেয়েছেন। অন্যদিকে, অনেক কর্মকর্তাকে তাদের নিজ প্রশাসনিক বিভাগের বাইরে বদলি করা হয়েছে। এতে লটারি প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে তারা দাবি করেন।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, ‘অতিরিক্ত কর্মকর্তা’ বা জনবল ঘাটতির যুক্তিকে ব্যবহার করে নির্দিষ্ট কর্মকর্তাদের ঢাকায় রাখার বা ঢাকায় নিয়ে আসার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। কারা এসব তালিকা তৈরি করেছেন, কারা অনুমোদন দিয়েছেন এবং কোন মানদণ্ডে একজন কর্মকর্তাকে নির্দিষ্ট লটারি বাক্সে রাখা হয়েছে—তা তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
মানববন্ধন শেষে ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতা মঞ্চের একটি প্রতিনিধিদল সচিবালয়ে গিয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেয়।
স্মারকলিপিতে কথিত লটারি প্রক্রিয়ার বৈধতা ও স্বচ্ছতা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত, লটারির আগে ও পরে প্রস্তুত করা তালিকা যাচাই, সংশ্লিষ্ট নথি ও প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া পরীক্ষা এবং অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের দাবি জানানো হয়।


