দেশের প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০টি ও জেলা সদর হাসপাতালে ১০টি করে কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস শয্যা স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এতে ডায়ালাইসিসের জন্য রোগীদের ঢাকায় যেতে হবে না।
রোববার দুপুরে নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। সকালে তিনি হাসপাতালটি আকস্মিক পরিদর্শন করেন। বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, জেলা পর্যায়ে ৬০টি ডায়ালাইসিস মেশিন থাকবে। প্রতিটি মেশিন দিনে তিনটি সেশন চালালে ১৮০ জন রোগী সেবা পাবেন। মেশিন স্থাপনে তিন মাসেরও কম সময় লাগবে। এরই মধ্যে টেন্ডার হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আগামী দুই বছরের মধ্যে উপজেলা পর্যায়ে ১০টি করে ডায়ালাইসিস বেড স্থাপন করব। ভবন নির্মাণের ডিপিপি তৈরি হয়েছে। শিগগিরই টেন্ডার হবে।’
নওগাঁ হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা ১৫১-তে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রথমে ৫০ থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। এখন ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হচ্ছে।’
নতুন হাসপাতালে নারীদের জন্য ২৫টি ও শিশুদের জন্য ২০টি শয্যা থাকবে। নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক ফিজিওথেরাপি ওয়ার্ড থাকবে। দুইজন চিকিৎসকও থাকবেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অত্যাধুনিক প্যাথলজি ল্যাব, আল্ট্রাসাউন্ডসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকবে। খালি জায়গায় নয়তলা ভবন নির্মাণ করা হবে। পুরোনো ভবনের ফাউন্ডেশন উপযোগী হলে সেটি সম্প্রসারণ করা হবে।’
চিকিৎসক সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গত ১৭ বছরে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন চিকিৎসক নিয়োগ হয়নি। এখন পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আড়াই হাজার নার্স ও আড়াই হাজার ফার্মাসিস্টও নিয়োগ দেওয়া হবে।’
সরকারি কর্ম কমিশনে চিকিৎসকদের সাক্ষাৎকার চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে পর্যাপ্ত চিকিৎসক পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন।
বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘গত ১৭ বছরে এসব প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করা হয়নি। এখন লাইসেন্স না থাকলে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনদের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট চলছে। অবৈধ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মাত্র ছয় মাস হয়েছে। আরেকটু সময় দেন। ১৮ থেকে ২০ বছর দেশে কোনো জবাবদিহি ছিল না। আমরা কাজ শুরু করেছি। প্রধানমন্ত্রীও এ বিষয়ে অত্যন্ত সিরিয়াস। আশা করি স্বাস্থ্য খাতকে অনেক উন্নত করতে পারব।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, নওগাঁ-৫ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলু, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আ. ম. আখতারুজ্জামান, সিভিল সার্জন আমিনুল ইসলামসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা।


