পিলখানা হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী সাবেক বিডিআর সদস্য নজরুল ইসলাম নিখোঁজ হওয়ার পর বলেশ্বর নদীতে তার লাশ পাওয়া গিয়েছিল বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জবানবন্দি দিয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. নিজাম উদ্দিন হাওলাদার। তার বর্ণনা অনুযায়ী, নদীর তীরে উদ্ধার হওয়া লাশটির শরীরে সিমেন্টের বস্তা বাঁধা, হাত-পা বাঁধা এবং পেট কাটা ছিল।
রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ার সময় এসব তথ্য জানান তিনি। বর্তমানে তার বয়স ৬০ বছর। প্রসিকিউশনের পক্ষে প্রসিকিউটর শাইখ মাহদী এবং আসামিপক্ষে আইনজীবী মো. সাহিদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
জবানবন্দিতে নিজাম উদ্দিন জানান, ২০১০ সালের ১৭ মে তিনি বাগেরহাটের শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ওই দিন বিকালে থানার এক চৌকিদার ফোন করে বলেশ্বর নদীর পশ্চিম তীরে চাল রায়েন্দা এলাকায় একটি অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ পড়ে থাকার খবর দেন।
খবর পেয়ে তিনি থানার এসআই ইকবালকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। লাশটি পচনধরা অবস্থায় ছিল। এর শরীরে জমাট বাঁধা সিমেন্টের বস্তা, হাত-পা বাঁধা এবং মাথা কাপড়ে ঢাকা ছিল বলে সাক্ষ্যে উল্লেখ করেন তিনি। সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় লাশটি সেদিন থানায় রাখা হয় এবং পরদিন ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
অজ্ঞাত হিসেবে ময়নাতদন্ত শেষে লাশটি আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে দাফন করা হয়। এর প্রায় দুই দিন পর এক ব্যক্তি থানার তৎকালীন ওসিকে ফোন করে দাবি করেন, উদ্ধার হওয়া লাশটি তার ভাইয়ের। তিনি জানান, তার ভাইকে দুই থেকে তিন মাস আগে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া থেকে অপহরণ করা হয়েছিল এবং এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছিল।
কয়েক দিন পর মৃত ব্যক্তির দুই ভাই, স্ত্রী ও চাচা শরণখোলা থানায় এসে সংরক্ষিত শার্ট ও প্যান্ট দেখে লাশটি শনাক্ত করেন। তারা জানান, মৃত ব্যক্তির নাম নজরুল ইসলাম এবং তিনি সাবেক বিডিআর সদস্য। পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পর তিনি গোপালগঞ্জের একটি ক্লিনিকে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করছিলেন বলেও তারা জানান।
সাক্ষী আরও বলেন, লাশ উদ্ধারের চার থেকে পাঁচ দিন পর খুলনা বিডিআর সেক্টর থেকে একজন কর্নেল তাকে ফোন করেন। পত্রিকায় খবর দেখে তিনি লাশের বিষয়ে তথ্য জানতে চান এবং একজন বিডিআর সদস্যকে থানায় পাঠানোর কথা জানান। প্রয়োজনে ডিএনএ পরীক্ষার ব্যবস্থা করার কথাও তিনি বলেছিলেন।
জেরায় নিজাম উদ্দিন বলেন, তিনি লাশটির সম্পূর্ণ অংশ দেখতে পারেননি এবং কোনো গুলির চিহ্নও দেখেননি। তবে কানের কাছে রক্তের মতো কিছু দেখেছিলেন। লাশের ময়নাতদন্ত ও সুরতহাল প্রতিবেদন তিনি দেখেননি বলেও জানান। সিমেন্টের বস্তাটি জব্দ করা হয়েছিল কি না, সেটিও তার জানা নেই।
প্রসিকিউশন সূত্রে বলা হয়, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের একজন প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন নজরুল ইসলাম। তার নিখোঁজ ও পরবর্তী সময়ে লাশ উদ্ধারের ঘটনাটিও তদন্তের অংশ হিসেবে ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছে।


