বৈরী আবহাওয়ায় সুন্দরবনের শ্যালার চর ও নারকেলবাড়িয়া এলাকায় আশ্রয় নেওয়া জেলেবহরে হানা দিয়ে পাঁচ জেলেকে অপহরণ করেছে বনদস্যুরা।
শনিবার রাত ১০টার দিকে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শ্যালার চর ও নারকেলবাড়িয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে রোববার বিকালে বিষয়টি জানাজানি হয়।
অপহৃতরা হলেন বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর হাওলাদার (৩৮), শিহাব হাওলাদার (৩৫), সাব্বির হাওলাদার (৩০), রিপন হাওলাদার (২৮) এবং উত্তর রাজাপুর গ্রামের জাকির হাওলাদার (৪০)।
অপহরণের পর জেলেদের কোথায় এবং কী অবস্থায় রাখা হয়েছে, তা নিশ্চিত করতে পারেননি বন বিভাগ ও মহাজনরা।
অপহৃত জেলেদের মহাজন বাবুল মাঝি জানান, অপহরণের পর দস্যুরা এখন পর্যন্ত কোনো যোগাযোগ করেনি। জেলেদের বনের কোথায় নিয়ে গেছে, তাও জানা সম্ভব হয়নি। খবর শুনে জেলেদের পরিবারে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের শ্যালার চর টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগর থেকে উঠে কয়েকটি ট্রলার নিয়ে জেলেরা শ্যালার চরের কালামিয়া ও নারকেলবাড়িয়া এলাকায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। রাত ১০টার দিকে বনদস্যু বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সশস্ত্র সদস্যরা জেলেবহরে হানা দেয়।
তিনি জানান, অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মৎস্য ব্যবসায়ী বাবুল মাঝির একটি ট্রলারসহ তিন জেলেকে এবং অপর দুটি ট্রলার থেকে আরও দুই জেলেকে তুলে নিয়ে যায়। জেলে অপহরণের খবর পেয়ে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘জেলেদের অপহরণের কথা আমরা শুনেছি। আমরা প্রতিনিয়ত খোঁজখবর রাখছি। বিষয়টি কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনকে জানানো হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘হঠাৎ করে বনদস্যুদের উৎপাত বেড়ে যাওয়ায় কোস্টগার্ড ও বনবিভাগ যৌথভাবে টহল জোরদার করেছে।’


