কক্সবাজারের টেকনাফে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরসংলগ্ন পালংখালী খালে মাছ ধরতে গিয়ে পানিতে ডুবে এক রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিখোঁজ আছে আরেক শিশু। বুধবার দুপুর পর্যন্ত শিশুটির খোঁজে ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরিদল অভিযান পরিচালনা করছে।
নিহত শিশুর নাম মোহাম্মদ সাবের (৯)। সে ২১ নম্বর রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের বি-২ ব্লকের বাসিন্দা মোহাম্মদ জোবায়েরের ছেলে। আর নিখোঁজ শিশুর নাম ইমতিয়াজ (৭)। সে একই ক্যাম্পের বি-৫ ব্লকের বাসিন্দা কালা মিয়ার ছেলে।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে টেকনাফ উপজেলার চাকমারকুল এলাকার ২১ নম্বর রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরসংলগ্ন পালংখালী খালে মাছ ধরতে যায় ওই দুই শিশু। এ সময় পাহড়িঢলের তীব্র স্রোতে তারা দুজনই তলিয়ে যায়।
শিশু দুটির ভেসে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন খালে নেমে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। পরে সাবেরকে খাল থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হলেও ইমতিয়াজের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করে। স্টেশন কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরার নেতৃত্বে দলটি খালের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালায়। পরে বুধবার সকালে চট্টগ্রাম থেকে ফায়ার সার্ভিসের বিভাগীয় ডুবুরি দলের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযানে যোগ দেন।
১৬ এপিবিএনের অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মো. কাউছার সিকদার বলেন, ‘ঘটনার খবর পাওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করছেন। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নিখোঁজ শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা স্থানীয়দের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার কার্যক্রমে সহযোগিতা করছি।’
উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের স্টেশন মাস্টার ডলার ত্রিপুরা বলেন, ‘নিখোঁজ শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য চট্টগ্রাম থেকে ফায়ার সার্ভিসের বিভাগীয় ডুবুরি দলের সদস্যরা সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেছেন। তবে এখনো শিশুটির সন্ধান পাওয়া যায়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘পাহাড়ি ঢলের কারণে খালে তীব্র স্রোত থাকায় অনুসন্ধান কার্যক্রমে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটছে। তারপরও ডুবুরি দল সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে।’


