চাঁদপুরে স্বর্ণ ব্যবসায়ী পরিবারের ৪ সদস্য নিখোঁজ

চাঁদপুরে স্বর্ণ ব্যবসায়ী পরিবারের ৪ সদস্য নিখোঁজ
Advertisement
Advertisement

চাঁদপুর শহরের একটি স্বর্ণ ব্যবসায়ী পরিবারের ৪ সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজরা হলেন, এস কে শিল্পালয়ের স্বত্ত্বাধিকারী পিন্টু দাস, তার স্ত্রী রিমি দাস, বড় ছেলে দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী প্রিয়ম দাস ও ছোট ছেলে রুপম দাস।

বুধবারপিন্টু দাসের নিকটআত্মীয় চাঁদপুর জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ছাত্র ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক উপমা দে নিখোঁজের তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, ‘শহরে পরিবারসহ ভাড়া থাকতো পিন্টু দাস। নানা কারণে ঋণ ছিল তার। সম্প্রতি পাটোয়ারী বাড়ির জনৈক ব্যক্তি পিন্টু দাসকে নানাভাবে হুমকি ধামকি দিচ্ছিল বলে খবর পাই। এরপর থেকেই হয়তো প্রাণ বাঁচাতে তিনি স্বপরিবারে নিখোঁজ।’

এলাকার অন্য এক পক্ষের লোকজন বলছে, পিন্টু দাস স্বর্ণের বন্ধকি ব্যবসা করতেন। দীর্ঘদিন তিনি অনেকের স্বর্ণ বন্ধক রেখে আর ফেরত দিতে পারছিলেন না। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সমিতি থেকেও ব্যবসার নামে লোন নিয়ে ঋণে জর্জরিত হয়েছেন। একাধিক স্থানে দোকান স্থানান্তর করলেও সবশেষ তিনি মদিনা মার্কেটের নীচ তলায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালাতেন। সেখানে যে পরিমাণ স্বর্ণ তিনি বন্ধক রাখতেন তার চার ভাগের একভাগ টাকা মানুষকে দিতেন।

রঘুনাথপুরের বাসিন্দা মনসুর খানের ছেলে রাসেল খান দাবি করেন, তিনি আড়াই ভরি স্বর্ণালঙ্কার পিন্টুর কাছে ৫০ হাজার টাকায় বন্ধক দেন। পরে পিন্টুকে ৫০ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে তার স্বর্ণালংকার আনতে যান। কিন্তু পিন্টু দাস স্বর্ণ না দিয়ে পরদিন আসতে বলেন। পরবর্তীতে পিন্টু দাস স্বপরিবারে উধাও হওয়ার সংবাদ পান।

আরও পড়ুন

এ বিষয়ে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানান তিনি।

দক্ষিণ গুণরাজদীর জাহিদুল ইসলাম ১২ আনা এবং শুভঙ্কর মজুমদার ১০ আনা স্বর্ণ পিন্টুর কাছে বন্ধক রাখার দাবি করে বলেন, মার্কেটটিতে প্রায় ৫/৬ মাস আগে এস কে শিল্পালয় নামে দোকান ভাড়া নেয় পিন্টু। তার মূল বাড়ী চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে। কুমিল্লা এবং মুদাফফরগঞ্জে তাদের আত্মীয় রয়েছে। এখন তিনি উধাও নাকি নিখোঁজ তা জানা নেই।

চাঁদপুর সদর মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার ফেরদৌস বলেন, ‘পিন্টু দাস স্বপরিবারে নিজে আত্মগোপনে থাকলে তাকে খুঁজে পাব কিভাবে? আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ করেছে কিনা তা এখনই বলতে পারছি না।’

চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি ফয়েজ বলেন, ‘পিন্টু দাসসহ তার পরিবারের ৪ জন নিখোঁজ এটা মাত্রই জানলাম। বিষয়টি আমরা তদন্ত করে তাদের উদ্ধারে পদক্ষেপ নেবো।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad