নেপালে ভোতে কোশি নদীতে আকস্মিক বন্যায় অন্তত ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে নিখোঁজ রয়েছেন আরও অন্তত ৪০০ জন।
বার্তা সংস্থা এএফপির বরাতে এনডিটিভি জানিয়েছে, সীমান্তের তিব্বত অংশ থেকে নেমে আসা পানিতে নেপালে এই বন্যার সৃষ্টি হয়। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি গ্রাম ভেসে গেছে।
নেপালের কেন্দ্রীয় পুলিশের মুখপাত্র ও উপমহাপরিদর্শক অবিনারায়ণ কাফলের বরাত দিয়ে নেপাল নিউজ জানিয়েছে, নুয়াকোট ও ধাদিং জেলা থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত আটজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার ভোরে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর উত্তরে রাসুয়া জেলায় আঘাত হানে বন্যা। প্রাথমিক তথ্যে বিবিসি জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কারণে তুষারধসের সৃষ্টি হয় এবং গলে যাওয়া বরফের পানি ভোটে কোশি নদীতে নেমে আসায় এই বন্যা দেখা দেয়।
নেপাল পর্যটন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বন্যাকবলিত এলাকা থেকে অন্তত ৩৮৪ পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন নেপালের নাগরিক। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয়।
এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রাসুয়া জেলায় নেপাল পুলিশের অন্তত ২৬ সদস্য এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীও তাদের সাত সদস্য নিখোঁজ থাকার কথা জানিয়েছে।
নেপালের সেনাবাহিনী দুর্গত এলাকায় হেলিকপ্টার ও দুর্যোগ মোকাবিলা দলের সদস্যদের মোতায়েন করেছে। এক বিবৃতিতে সেনাবাহিনী বলেছে, সীমান্তের দুই পাশেই উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চলছে। এখন পর্যন্ত ৮৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে বলেও জানিয়েছে তারা।
বন্যার পানির প্রবল স্রোতে সড়ক ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যায় তাদের অন্তত ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ জলবিদ্যুৎ ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেপালের বেশ কয়েকটি মহাসড়কও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।


