গ্যাস সংকটের কারণে প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস বন্ধ থাকার পর রাষ্ট্রায়ত্ত চিটাগং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) পুনরায় উৎপাদনে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কর্তৃপক্ষ আশা করছে, সেপ্টেম্বরের শুরুতেই কারখানাটির প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত হবে।
প্রত্যাশা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ পুনরায় চালু হলে আগামী ৪ সেপ্টেম্বর থেকে সিইউএফএল- এ পূর্ণমাত্রায় উৎপাদন শুরু হতে পারে।
দেশের অন্যতম প্রধান সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সিইউএফএল গ্যাস সংকটের কারণে গত ৪ মার্চ উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে কারখানাটি বন্ধ রয়েছে।
সিইউএফএল-এর প্রধান রসায়নবিদ ও অপারেশন বিভাগের প্রধান উত্তম চৌধুরী টাইমস অব বাংলাদেশকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ২৫ আগস্ট কারখানাটি পুনরায় চালুর প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও অনুমোদন পাওয়া গেছে। এরই মধ্যে স্টার্টআপ কার্যক্রম ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু হয়েছে।
উত্তম চৌধুরী বলেন, ‘আমরা আশা করছি, ৩ অথবা ৪ সেপ্টেম্বরের দিকে প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ পাওয়া যাবে। প্রত্যাশা অনুযায়ী গ্যাস পাওয়া গেলে ওই দিন থেকেই উৎপাদন শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’
তিনি জানান, পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন চালাতে সিইউএফএল-এর দৈনিক প্রায় ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন।
দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকলেও কারখানাটিতে বড় ধরনের কোনো যান্ত্রিক ক্ষতি হয়নি। কারণ, বন্ধ থাকার সময় বিশেষ সংরক্ষণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কারখানার যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়েছে।
তবে, গ্যাস সরবরাহ কতদিন নিরবচ্ছিন্ন থাকবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা নেই। দেশে চলমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের প্রেক্ষাপটে সিইউএফএল কর্তৃপক্ষ সারা বছর নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ চাইলেও দীর্ঘমেয়াদি নিশ্চয়তা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
উত্তম চৌধুরী আরও বলেন, ‘দীর্ঘ সময় কারখানা বন্ধ থাকলে সরাসরি সার উৎপাদন ব্যাহত হয় এবং দেশের আমদানিনির্ভরতা বেড়ে যায়। দেশীয় উৎপাদন বন্ধ থাকলে বেশি দামে সার আমদানি করতে হয়, যা জাতীয় অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।’
বর্তমানে সিইউএফএল-এ অনুমোদিত জনবলের বিপরীতে প্রায় ৭০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন।
এদিকে সিইউএফএল সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকাল থেকে কারখানাটিতে যন্ত্রপাতি পরীক্ষা ও অন্যান্য প্রস্তুতিমূলক কাজের জন্য দৈনিক প্রায় ছয় মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরুর জন্য ধীরে ধীরে গ্যাস সরবরাহ প্রয়োজনীয় মাত্রায় বাড়ানো হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় প্রতিষ্ঠিত সিইউএফএল প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন করে। প্রায় ৩৮ বছর বয়সী এই কারখানাটি গত দুই বছরে যান্ত্রিক ত্রুটি ও গ্যাস সংকটের কারণে বেশ কয়েকবার উৎপাদন বন্ধ রেখেছে।
বর্তমানে কারখানাটির দৈনিক এক হাজার ১০০ টন ইউরিয়া এবং ৮০০ টন অ্যামোনিয়া উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।
চট্টগ্রামে অব্যাহত গ্যাস সংকট
চট্টগ্রামের পুরো গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা আমদানিকৃত এলএনজির ওপর নির্ভরশীল। এ অঞ্চলে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট বলে ধারণা করা হয়।
স্বাভাবিক সময়ে মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করে। তবে, চলমান জাতীয় গ্যাস সংকটের মধ্যে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) জাতীয় গ্রিড থেকে চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিতরণের জন্য দৈনিক প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাচ্ছে।
ফলে কেজিডিসিএল শিল্প গ্রাহকদের মধ্যে গ্যাস সরবরাহে রেশনিং করতে বাধ্য হচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে সিইউএফএল-এর মতো শিল্পকারখানা এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রেও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে বা কমিয়ে দিতে হয়েছে।


