প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিশ্বের নিকৃষ্টতম অপরাধগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর অপরাধ হচ্ছে গুম।
তিনি বলেন, গুম একটি বৈশ্বিক সমস্যা এবং মানবাধিকারের চরমতম লঙ্ঘন। বিশেষ করে বিশ্বের স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে এ ধরনের অমানবিক ঘটনা ঘটে।
রোববার আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে শনিবার এক বাণীতে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অনেক সময় সরকারবিরোধী আন্দোলন বা ভিন্নমতের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে এ ধরনের নির্দয়, নির্মম ও নিষ্ঠুর পথ বেছে নেয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রোববার আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। এ দিবসে আমি বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল গুম হওয়া ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারের সদস্যদেরকে গভীর সহানুভূতি ও সহমর্মিতা জানাই।’
বাণীতে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের পতিত, পরাজিত ও পলাতক ফ্যাসিস্ট সরকার দেশের জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার দমন করার জন্য গুম-অপহরণের অমানবিক পথ বেছে নিয়েছিল। গুম-অপহরণের শিকার ব্যক্তিদের মাসের পর মাস কিংবা বছরের পর বছর ধরে আটক রাখার জন্য তৈরি করেছিল গোপন বন্দিশালা। পলাতক ফ্যাসিস্ট আমলের এসব গোপন বন্দীখানা জনপরিসরে আয়নাঘর নামে পরিচিতি পেয়েছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হিসাবে, দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করে বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট সরকার বিভিন্ন সময়ে কমপক্ষে সাত শতাধিক মানুষকে গুম করেছে। এটি অত্যন্ত মর্মস্পর্শী ও হৃদয়বিদারক। বর্তমান সরকার প্রতিটি গুমের ঘটনা তদন্ত করে বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে গুম বন্ধ করতে পৃথক আইনি কাঠামো প্রণয়ন করছে।’
ইতিমধ্যেই জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ উত্থাপিত হয়েছে। একই সঙ্গে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’-ও জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। সরকার আশা করে, উত্থাপিত বিলগুলো যথানিয়মে আইনে পরিণত হলে ভবিষ্যতে আর কেউ গুম কিংবা অপহরণের মতো মানবতাবিরোধী জঘন্য অপরাধের পথ বেছে নেবে না, যোগ করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, গুম কিংবা অপহরণ শুধুমাত্র একটি সংখ্যা নয় কিংবা একজন ব্যক্তির হারিয়ে যাওয়া নয়; বরং একটি পরিবারের স্বপ্ন, সাধ ও আকাঙ্ক্ষার মৃত্যু। একটি পরিবারের সামনে থমকে যাওয়া ভবিষ্যৎ। গুম হয়ে যাওয়া মানুষের অপেক্ষায় থাকা স্বজনদের দিন কাটে এক অনিশ্চিত বাস্তবতায়, যেখানে কোনো সমাপ্তি নেই, নেই শোক পালনের স্বাভাবিক সুযোগ।
ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পথ ধরে ২০২৪ সালে বীর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট চক্রের পতনের পর সৌভাগ্যবান কেউ কেউ ফিরে এসেছেন। অপরদিকে, ইলিয়াস আলী কিংবা চৌধুরী আলমের মতো অসংখ্য মানুষের আজও খোঁজ মেলেনি, যোগ করেন তিনি।
আইসিসির রোম সনদের ৭(২) অনুচ্ছেদে গুমকে মানবতার বিরুদ্ধে একটি অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এবং গুমের ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। রাষ্ট্র বা সরকার কর্তৃক গুম বিরুদ্ধে বিশ্ববিবেককে জাগিয়ে রাখতে সারা বিশ্বে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘ভিক্টিমস ফার্স্ট, অ্যাকশন্স নাউ’।
এই মনুষ্যত্বহীন অপরাধে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিচার ও জবাবদিহিতার জন্য দুনিয়াজুড়ে ঐক্য ও সংহতির আহ্বানও জানান প্রধানমন্ত্রী।


