মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ে দুই শতাধিক ঘরবাড়ি, গাছপালা ও বিভিন্ন স্থাপনার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থায়ও বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কয়েক মিনিট স্থায়ী এই ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষতি হয়। সদর, পৃথিমপাশা, রাউৎগাঁও, ব্রাহ্মণবাজার, টিলাগাঁও ও হাজীপুর ইউনিয়নসহ একাধিক এলাকায় ঘরবাড়ির টিনের চাল উড়ে যায়, গাছপালা উপড়ে পড়ে এবং সড়ক ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটে।
বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহাদাত হোসেন জানান, গাছ ভেঙে পড়ায় বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তথ্যমতে, ঝড়ের সময় পৃথিমপাশা ইউনিয়নের রবিরবাজার এলাকায় প্রধান সড়কের ওপর গাছ ভেঙে পড়ে একটি অটোরিকশা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কয়েকটি দোকানেও আঘাত হানে। এছাড়া মৌলভীবাজার-কুলাউড়া সড়কের লুয়াইউনি চা-বাগান এলাকায় গাছ পড়ে প্রায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।

স্থানীয়রা জানান, রাউৎগাঁওয়ের পীরের বাজার ও নর্তন এবং পৃথিমপাশার রবিরবাজার এলাকায় ঝড়ের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে অনেক ঘরের টিনের চাল উড়ে যায় এবং বড় বড় গাছ উপড়ে পড়ে। ঝড়ের সময় বিকট শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
টিলাগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আব্দুল বাছিত জানান, তার ইউনিয়নে অন্তত ৪০টির বেশি ঘরের টিনের চালা উড়ে গেছে এবং প্রায় দুই হাজার গাছপালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করে উপজেলা প্রশাসনে পাঠানো হবে।
এদিকে রাউৎগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুল মুক্তাদির মনু বলেন, প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভবানীপুর সড়কের পাশে বড় গাছ উপড়ে পড়ে সীমানা প্রাচীর, পাকা রাস্তা ও বিদ্যুৎ লাইনের ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সরকারি সহায়তা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।
পৃথিমপাশা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. সেলিম আহমদ চৌধুরী জানান, তার ইউনিয়নে ৫০টির বেশি ঘরবাড়ি এবং রবিরবাজারের ৫ থেকে ৬টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে গাছ পড়ে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে।

ঝড়ে বিভিন্ন সড়কে অসংখ্য গাছ ভেঙে পড়েছে উল্লেখ করে কুলাউড়া বন বিভাগের বন কর্মকর্তা রবীন্দ্র কুমার সিংহ বলেন, বন বিভাগের তিনটি দল গাছ অপসারণে কাজ করছে। ঝুঁকিপূর্ণ গাছ চিহ্নিত করে অপসারণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিউদ্দিন জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। চূড়ান্ত তালিকা পাওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সহায়তার জন্য আবেদন করা হবে। একই সঙ্গে সড়কের পাশে ঝুঁকিপূর্ণ গাছ দ্রুত অপসারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।


