কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীর মোহনা সংলগ্ন নাজিরারটেক এলাকার সাগরে নিজেদের তৈরি বোট ডুবিতে নিখোঁজ থাকার সাড়ে ৩২ ঘণ্টা পর নিউজিল্যান্ডের নাগরিক কিশোর আলবার্টের (১৬) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে কক্সবাজার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কুতুববাজার সংলগ্ন সাগর উপকূলে মরদেহটি ভেসে আসে। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ও লাইফগার্ড কর্মীরা মরদেহটি উদ্ধার করে।
কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘কুতুববাজার সংলগ্ন সাগর উপকূলে মরদেহটি ভেসে আসার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। মরদেহ উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।’
এর আগে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাঁকখালী নদীর মোহনা সংলগ্ন নাজিরারটেক এলাকার সাগরে ভ্রমণের সময় পরিবারটির বোট ডুবে যায়। এ সময় স্থানীয় জেলেরা আলবার্টের বাবা জন এডওয়ার্ড (৭৪), মা বেলা (৩৬) ও ভাই রালফকে (১৩) জীবিত উদ্ধার করেন। পরে তাদের কোস্টগার্ড কক্সবাজার স্টেশনে হস্তান্তর করা হয়। তবে নিখোঁজ ছিল আলবার্ট। তারা চারজনই নিউজিল্যান্ডের নাগরিক।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাগরপথে নিজেদের তৈরি বোট নিয়ে নিউজিল্যান্ডের এই পরিবারটি কক্সবাজার ভ্রমণে এসেছিল। গত ৮ এপ্রিল রাতে মহেশখালী উপজেলার সোনাদিয়া দ্বীপ উপকূলের সাগরে তারা জলদস্যুদের হামলা ও ডাকাতির শিকার হয়। এরপর থেকে পরিবারের সদস্যরা কোস্টগার্ডের হেফাজতে ছিলেন বলে জানা গেছে।
কক্সবাজার সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার বলেন, ‘বুধবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে কক্সবাজার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কুতুববাজার সংলগ্ন সাগরে নিখোঁজ কিশোর আলবার্টের মরদেহ ভেসে আসে। স্থানীয়রা দেখতে পেয়ে খবর দিলে পুলিশ ও লাইফগার্ড কর্মীরা মরদেহটি উদ্ধার করে।’
তিনি বলেন, ‘গত ৮ এপ্রিল রাতে মহেশখালীর সোনাদিয়া উপকূলের সাগরে জলদস্যুতার শিকার হওয়ার পর থেকে নিউজিল্যান্ডের চার সদস্যের পরিবারটি কোস্টগার্ডের হেফাজতে ছিল। তাদের কারও কারও ভিসা থাকলেও মেয়াদ নেই। আবার ছোট শিশু রালফের (১৩) ভিসার কোনো কাগজপত্রও পাওয়া যায়নি।’
ইউএনও আরও জানান, বোট ডুবির ঘটনার পরপরই নিউজিল্যান্ডের ঢাকাস্থ দূতাবাসকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। বুধবার বিকালে দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কক্সবাজারে পৌঁছেছেন।
তাহমিনা আক্তার বলেন, ‘মরদেহের আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর নিউজিল্যান্ডের জীবিত তিন নাগরিককে দূতাবাসের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
কক্সবাজার সদর থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, জীবিত উদ্ধার হওয়া নিউজিল্যান্ডের তিন নাগরিক বর্তমানে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন।


