ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সামর্থ্য ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর পূর্বাচলে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স মাল্টিপারপাস ট্রেনিং গ্রাউন্ডে আয়োজিত ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ, পদক বিতরণ এবং পাসিং আউট প্যারেড-২০২৬ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সারাদেশে ৫৩৮টি ফায়ার স্টেশনের মাধ্যমে সেবা দেওয়া হলেও তা চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট নয়। এ বাস্তবতায় সরকার নতুন উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
তিনি জানান, ইতোমধ্যে ২০টি ফায়ার স্টেশন নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি সেবা সম্প্রসারণে ১০০টি অ্যাম্বুলেন্স সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ডুবুরি ইউনিটের সক্ষমতা বাড়াতে ৭২টি নতুন পদ তৈরির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে নৌদুর্ঘটনা মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
ফায়ার সার্ভিসের জনবল বৃদ্ধির পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অর্গানোগ্রাম পুনর্গঠনের মাধ্যমে সদস্য সংখ্যা ৩০ হাজারের বেশি করার প্রস্তাব বিবেচনা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, প্রশিক্ষণের মান উন্নয়নে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স একাডেমি স্থাপনের কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। সেবা সহজীকরণ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ১ মে ২০২৬ থেকে অনলাইনভিত্তিক ই-ফায়ার লাইসেন্স সেবা চালু করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের আবাসন সমস্যা সমাধানে ঢাকার মিরপুর ও সদরঘাটে দুটি বহুতল ভবন নির্মাণ এবং মিরপুরে সদর দপ্তর ভবন নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে।
এছাড়া “ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ ভাতা” ও অন্যান্য সুবিধা বাড়ানোর বিষয়টি পর্যালোচনায় রয়েছে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের শুরুতে মন্ত্রী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ-২০২৬ উদ্বোধন করেন এবং পাসিং আউট প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল এনডিসি’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু।
পাসিং আউট প্যারেডে মোট ২৩৪ জন অংশগ্রহণ করেন, যার মধ্যে ফায়ারফাইটার ১৫৮ জন, স্টেশন ও স্টাফ অফিসার ১২ জন, ড্রাইভার ৫৬ জন, নার্সিং অ্যাটেনডেন্ট ২ জন এবং ডুবুরি ৬ জন।
অনুষ্ঠানে ২০২৩ ও ২০২৪ সালের বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ মোট ৮৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পদক প্রদান করা হয়।


