সাংবাদিকতা হারানো মর্যাদা ও জনআস্থা পুনরুদ্ধার করতে না পারলে দেশ বড় সংকটে পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ।
অপপ্রচার মোকাবিলায় সাংবাদিকদের ফ্যাক্ট চেকিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
শুক্রবার রাজশাহীতে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরইউজে) ও পিআইবির ‘এআই ও ফ্যাক্ট চেকিং’ বিষয়ক তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সনদপত্র দেওয়া হয়।
আরইউজে সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুল আউয়ালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহা. সবুর আলী। বক্তব্য দেন বিএফইউজের সহকারী মহাসচিব সাদিকুল ইসলাম স্বপন, পিআইবির প্রশিক্ষক জিলহাজ উদ্দিন নিপুন ও দৈনিক রাজশাহী সংবাদ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক নাজিব ওয়াদুদ।
ফারুক ওয়াসিফ বলেন, ‘প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে সাংবাদিকদের দক্ষতা বাড়াতে হবে। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের জন্য নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তথ্য যাচাই করা অপরিহার্য। ভুয়া তথ্য ও গুজব মোকাবিলায় কারিগরি দক্ষতার সঙ্গে পেশাগত নৈতিকতার বিকল্প নেই।’
সাংবাদিকতার সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের কারণে সত্য-মিথ্যার সীমারেখা অস্পষ্ট হয়ে পড়েছে। এই শিকারি সাংবাদিকতা এখন শিক্ষারও বিষয়। কনফার্মেশন বায়াসের কারণে মানুষ আগের বিশ্বাসকে সত্য মনে করে ছড়ায়। ফলে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও নারী নেত্রীরা অপপ্রচারের শিকার হচ্ছেন।’
তিনি আরও জানান, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সাংবাদিকদের সক্ষমতা বৃদ্ধির কর্মসূচি চলছে। পিআইবি দেশের ৬০টি জেলায় প্রশিক্ষণ দিয়েছে। ভবিষ্যতে এটিকে একাডেমিক এক্সিলেন্স সেন্টারে রূপান্তর করে মাস্টার্স ও ডিপ্লোমা কোর্স চালু করা হবে। সংবাদ সহজ বাংলায় লেখার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ‘শৈল্পিক স্বাধীনতার সঙ্গে জবাবদিহিতাও থাকতে হবে। কাউকে লক্ষ্য করে বিভ্রান্তিকর বয়ান তৈরি করা সাংবাদিকতার পরিপন্থি।’
বিশেষ অতিথি মোহা. সবুর আলী বলেন, ‘গুজব প্রতিরোধে ফ্যাক্ট চেকিং অপরিহার্য। প্রশাসন ও গণমাধ্যমের সহযোগিতায় দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা শক্তিশালী হবে।’
পিআইবির প্রশিক্ষক জিলহাজ উদ্দিন নিপুন জানান, এআই সাংবাদিকের বিকল্প নয়, তবে তথ্য বিশ্লেষণে কার্যকর সহায়কের কাজ করে।
জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমের ৪০ জন সাংবাদিক এই কর্মশালায় অংশ নেন। এতে সংবাদ লেখা, তথ্য বিশ্লেষণ, ছবি-ভিডিও যাচাই, ওএসআইএনটি, মেটাডেটা বিশ্লেষণ ও জিওলোকেশনসহ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এআই ব্যবহারের ব্যাবহারিক কৌশল শেখানো হয়।


