চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় খলনায়ক আশরাফুল হক ডনের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
ডনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের পরিদর্শক মজিবুর রহমান ডনের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে করা আবেদনের প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেয় আদালত। গত ২০ আগস্ট করা ওই আবেদনের ওপর শুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য করেছিল আদালত।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সালমান শাহ হত্যার ঘটনায় ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে কীভাবে এবং কত টাকার বিনিময়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছিল—এমন তথ্য উঠে এসেছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এসব তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।
পিপি আরও বলেন, দীর্ঘ ৩০ বছর আগে জনপ্রিয় এই চিত্রনায়ক মারা গেলেও তার মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য এখনো পুরোপুরি উদঘাটিত হয়নি। মামলার যারা আত্মগোপনে রয়েছেন, তাদের শনাক্ত করা এবং ডন বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করার পেছনে কারও ইন্ধন ছিল কি না, তা খুঁজে বের করা প্রয়োজন। এসব কারণে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ জরুরি।
অন্যদিকে ডনের পক্ষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবুল কালাম খান, ফরিদুল ইসলামসহ কয়েকজন আইনজীবী রিমান্ড বাতিলের আবেদন করেন।
আইনজীবী আবুল কালাম খান বলেন, ডন একজন খল অভিনেতা এবং দেশের জন্য তার অবদান রয়েছে। তার জনপ্রিয়তার কারণেই সালমান শাহর জনপ্রিয়তা আরও বেড়েছিল বলেও তিনি আদালতে উল্লেখ করেন।
অন্য আইনজীবী ফরিদুল ইসলাম বলেন, ডন পালিয়ে যাওয়ার উদ্দেশে বিদেশে যাচ্ছিলেন না; তিনি ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরব যাচ্ছিলেন। বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি তিনি জানতেন না। জানলে তিনি যেতেন না বলেও দাবি করেন আইনজীবী।
তিনি আরও বলেন, মামলার এজাহারে ডন কীভাবে সালমান শাহকে হত্যা করেছেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো বর্ণনা নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা থাকলেও সেগুলোর অধিকাংশই সত্য নয়। সালমান শাহকে হত্যা করা হয়েছিল নাকি তিনি আত্মহত্যা করেছিলেন—সেটিই তদন্তের মূল বিষয়। প্রয়োজনে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা যেতে পারে, কিন্তু রিমান্ডের যৌক্তিকতা নেই।
এদিকে তদন্ত কর্মকর্তার রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, সালমান শাহর মৃত্যু নিয়ে করা মামলাটি অত্যন্ত আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর। মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন, ডনের সহযোগী অপরাধীদের অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তিনি কার ইন্ধনে ও কীভাবে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন—এসব বিষয়ে তথ্য জানতে তাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।
এর আগে, গত ২৫ আগস্ট অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ নুরুল ইসলামের আদালত এবং তারও আগে ১২ আগস্ট ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত ডনের জামিন আবেদন নাকচ করে।
এর আগে, গত ৯ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে তাকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওইদিনই তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসায় মারা যান চিত্রনায়ক সালমান শাহ। শুরুতে তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হলেও পরবর্তী সময়ে এ ঘটনায় হত্যা মামলা করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে মামলাটির তদন্ত চলছে এবং বিভিন্ন সময়ে এতে একাধিক ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে।
২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে রমনা থানায় সামিরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন সামিরা হকের মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, খলনায়ক আশরাফুল হক ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।


