এমপিওভূক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা শনিবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে কালো পতাকা হাতে মিছিল নিয়ে হাইকোর্টের কদম ফোয়ারা এলাকায় জড়ো হন। পরে সেখানেই বিক্ষোভ সমাবেশ করেন তারা।
শত শত আন্দোলনকারী কালো পতাকা উঁচিয়ে শ্লোগানে মুখরিত করেন সমাবেশস্থল। এ সময় সেখানে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। জাতীয় প্রেসক্লাব, সচিবালয়সহ আশেপাশের এলাকায় দেখা দেয় তীব্র যানজট।

আন্দোলনকারীরা জানান, রোববার পরিবার-পরিজনকে সঙ্গে নিয়ে ‘মার্চ টু যমুনা’ কর্মসূচি শুরু করবেন তারা। শহীদ মিনারে অবস্থানরত একাংশের আমরণ অনশনও অব্যাহত থাকবে।বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ ও মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বাড়িভাতা প্রদানের দাবিতে কয়েক দিন ধরে রাজধানীতে টানা অবরোধ-বিক্ষোভের পর শুক্রবার আন্দোলনকারীদের একাংশ শহীদ মিনারে আমরণ অনশ ধর্মঘট শুরু করেছেন।
হাইকোর্টের সামনের সমাবেশে সংহতি জানিয়েছে গণধিকার পরিষদ। সমাবেশে সংগঠন নেতা রাশেদ খান বলেন, ‘শিক্ষকরা রাষ্ট্রীয় দুর্নীতির অংশীদার নন। অথচ ন্যায্য অধিকার পেতে রাস্তায় নামতে বাধ্য হচ্ছেন।’ তিনি বলেন, ‘নানা সুযোগ-সুবিধা ভোগ করা আমলাদের চেয়ে শিক্ষকদের সম্মানী বেশি হওয়া উচিত।’

রাশেদ খান ঘোষণা দেন, ‘আপনাদের দাবি পূরণ না হলে সচিবালয় ঘেরাওয়ের পাশাপাশি যমুনা ঘেরাওয়েও গণধিকার পরিষদ মাঠে থাকবে।’
পরে সমাবেশকারীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনশন ধর্মঘট কর্মসূচিস্থলে ফিরে যায়।
এর আগে, গত ১২ অক্টোবর থেকে তিন দফা দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে টানা অবস্থান ও অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেছিলেন তারা। পুলিশের বাধার মুখে সেদিন দুপুরে তারা শহীদ মিনারে অবস্থান নেন। এরপর মঙ্গলবার সচিবালয় অভিমুখে লংমার্চ এবং বুধবার শাহবাগে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন।

এরপর শিক্ষকরা একাধিকবার যমুনা অভিমুখে পদযাত্রার ঘোষণা দিলেও শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করে শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রাখেন।
বৃহস্পতিবার রাতে দাবি আদায়ের জন্য আমরণ অনশনের ঘোষণা দেন তারা। ওইদিন বিকালে শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরারের সঙ্গে শিক্ষক নেতাদের বৈঠক হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, আলোচনায় উপদেষ্টা নভেম্বর থেকে মূল বেতনের ৫ শতাংশ বাড়িভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব দেন। কিন্তু শিক্ষকরা সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘নভেম্বর থেকে অন্তত ১০ শতাংশ এবং আগামী জুলাই থেকে আরও ১০ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’ উপদেষ্টা জানান, ‘অর্থের সংস্থান না থাকায় তা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।’
সব সরকারের আমলে শিক্ষকরা বৈষম্যের শিকার বলে অভিযোগ করেন তারা।


