চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, চাক্তাই খাল দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামের দুঃখ হিসেবে পরিচিত। জলাবদ্ধতা নিরসনে খালটি নিয়মিত খনন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি খালে ময়লা-আবর্জনা ফেলা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে। নগরবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগ ও সচেতনতা ছাড়া জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
শুক্রবার দুপুরে নগরীর চকবাজার ডিসি রোডের মিয়ার বাপের মসজিদসংলগ্ন চাক্তাই খাল এবং সেখানে নির্মাণাধীন সেতুর কাজ পরিদর্শনের সময় তিনি এসব কথা বলেন।
মেয়র বলেন, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা এবং খালে বর্জ্য ফেলা বন্ধ করা গেলে এ এলাকার জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে আসবে। একই সঙ্গে বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই নির্মাণাধীন সেতুর কাজ সম্পন্ন করে জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে হবে।
পরিদর্শনকালে তিনি খালের বর্তমান অবস্থা ও সেতু নির্মাণকাজের অগ্রগতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাজের গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প শেষ করার নির্দেশ দেন।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রামকে আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, সবুজ এবং জলাবদ্ধতামুক্ত নগরী হিসেবে গড়ে তোলাই সিটি করপোরেশনের প্রধান লক্ষ্য। চাক্তাই খালের ওপর নির্মাণাধীন সেতুটি স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের করের অর্থে বাস্তবায়িত উন্নয়ন প্রকল্পে কোনো ধরনের ধীরগতি বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।
এ কারণে তিনি নিজেও নিয়মিত মাঠপর্যায়ে উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকি করছেন বলে জানান।
নগরবাসীর প্রতি সচেতনতার আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, গণসচেতনতা ছাড়া জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে চট্টগ্রামকে মুক্ত করা সম্ভব নয়। বাজারের ব্যবসায়ীরা যাতে ফুটপাত ও খালপাড় দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করতে না পারেন, সে জন্য ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। পুনর্বাসনের পরও যারা খালের পাড়ে বসে ব্যবসা পরিচালনা করবেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, সিটি করপোরেশন শুধু অবকাঠামো উন্নয়নে সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না; নাগরিকদের মধ্যেও দায়িত্ববোধ ও সচেতনতা গড়ে তুলতে চায়। কারণ এই নগরী সবার, তাই একে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য রাখার দায়িত্বও সবার।


