রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক ঘটনায় সংবাদ পরিবেশন নিয়ে সাংবাদিকদের হুমকি দিয়েছেন রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাকসু কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ হুমকি দেন।
মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, কিছু সংবাদমাধ্যম ঘটনাকে ছাত্রলীগের পক্ষে উপস্থাপন করেছে। এ ধরনের সংবাদ প্রকাশকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা বলছেন আমরা হামলা করেছি। এটা কীভাবে হামলা হয়? তারা হামলা করেছে, আমরা প্রতিরোধ করেছি। প্রতিরোধ শব্দটি ব্যবহার করতে আপনাদের এত সংকোচ কেন? ছাত্রলীগের প্রতি এত মায়াকান্না কেন?
তিনি আরও বলেন, রাকসু ভবনে একজনকে মারধর করা হলো, দুজনের ওপর হামলা হলো, এসব নিয়ে আপনাদের তেমন কোনো কথা নেই। অথচ লাইব্রেরিতে শিক্ষার্থীদের বিশ-পঁচিশ মিনিট নষ্ট হলো, সেটাই বড় বিষয় হয়ে গেল। সাংবাদিকদের এই ভূমিকার বিরুদ্ধে আমরা পদক্ষেপ নেব। ছাত্রলীগকে ডিফেন্ড করে যারা সংবাদ প্রকাশ করেছেন, আমরা সেগুলো সংগ্রহ করছি। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাকসু সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, সাংবাদিকতা আপনারা আমাদের চেয়ে ভালো বোঝেন। শব্দ ব্যবহারে সতর্ক থাকুন। শব্দ দিয়েই মানুষকে গড়ে তোলা যায়, আবার ধ্বংসও করা যায়। গত দুই বছর ধরে আমরা ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্টদের বিচারের দাবি জানিয়ে আসছি। এই ঘটনার জন্য যারা দায়ী, তাদের বিরুদ্ধেও আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানাব। আমার বিশ্বাস, আগের ঘটনাগুলোর বিচার সময়মতো হলে আজকের এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না।
ছাত্রদলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ছাত্রদলের প্রতিও ধিক্কার জানাই। যে ব্যক্তি একসময় জামায়াত-শিবিরবিরোধী নোটিশ দিয়েছে, সেই ব্যক্তি এখন ছাত্রদল করছে এবং ছাত্রদল তাকে আশ্রয় দিচ্ছে। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত একজন ব্যক্তিকে রাজনৈতিকভাবে আশ্রয় দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সংবাদ সম্মেলনে ছয় দফা দাবি জানিয়েছে রাকসু। দাবিগুলো হলো নারী শিক্ষার্থীকে প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় জড়িত সব অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ; রাকসু ভবনে হামলা, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও আহত করার ঘটনায় জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনা; ঘটনার সময় দায়িত্ব পালনে অবহেলা কিংবা নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ; ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস, সহিংসতা ও রাজনৈতিক পরিচয়ের অপব্যবহার বন্ধে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ; সব শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাভাবিক ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং অতীতে নির্যাতনের সঙ্গে যুক্ত ও ছাত্রলীগ সম্পৃক্ততা রয়েছে এমন সব বিচার নিশ্চিত করা।


