শাশুড়ি হত্যা মামলায় ১৯ বছর পর জামাইয়ের যাবজ্জীবন

শাশুড়ি হত্যা মামলায় ১৯ বছর পর জামাইয়ের যাবজ্জীবন
ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে শাশুড়ি মাহমুদা বেগমকে ছুরিকাঘাতে হত্যার দায়ে জামাই বিরাজ আলীকে (৫০) যাবজ্জীবন দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আইনজীবী মাসুদুর রহমান বিশ্বাস বিষয়টি নিশ্চিত করছেন। এর আগে বুধবার বিকালে গাইবান্ধার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১ আদালতের বিচারক মোল্যা সাইফুল আলম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় সাজাপ্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৯ সালে বিরাজ আলীর সঙ্গে একই উপজেলার চক শিবপুর গ্রামের দুদু মিয়া ও মাহমুদা বেগম দম্পতির মেয়ে দুলালী বেগমের বিয়ে হয়। মাদকাসক্ত স্বামীর নির্যাতনের কারণে ২০০৭ সালে দুই সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন দুলালী। স্ত্রীকে বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য চেষ্টা করেন বিরাজ আলী। তবে দুলালী বেগম এতে রাজি হননি।

২০০৭ সালের ১৪ মে রাতে কাজ শেষে মা মাহমুদা বেগম ও মেয়ে দুলালী বেগম একসঙ্গে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে গোবিন্দগঞ্জের চক শিবপুর গ্রাম আগে থেকে ওত পেতে থাকা বিরাজ আলীসহ আরও অজ্ঞাতনামা দুই থেকে তিনজন তাদের পথরোধ করে দুলালীকে জোর করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

আরও পড়ুন

এ সময় মাহমুদা বেগম বাধা দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে বিরাজ আলী তার শাশুড়ির বুকে ও পাঁজরে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করেন। তারদের চিৎকার শুনে গ্রামবাসী এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে আহত মাহমুদা বেগমকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই রাতেই তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় পরদিন ১৫ মে নিহতের ভাই শহিদুল ইসলাম গোবিন্দগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন।

আদালতের জিআরও সুব্রত বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোবিন্দগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গোলাম মোস্তফা তদন্ত শেষে ২০০৭ সালের ১০ আগস্ট বিরাজ আলীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আদালত দীর্ঘ সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে বিরাজ আলীকে যাবজ্জীবন এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয়।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad