দেশের ওষুধ শিল্পের টেকসই উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় রেখে ওষুধের দাম নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত।
তিনি বলেছেন, ‘শিল্পের স্বার্থ রক্ষা করা জরুরি হলেও যখন-তখন দাম বাড়িয়ে জনগণ ও সরকারকে বিপদে ফেলা যাবে না।’
সোমবার বিকালে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ ও বিশ্ব ব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘বেসরকারি খাতের সাথে অংশীজন পরামর্শ সভা: স্বাস্থ্য খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সরকার গঠনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মাত্র দুই-আড়াই মাস হলো দায়িত্ব নিয়েছি। দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আসা এই সরকারের কাছে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর স্বাস্থ্য খাতের সব জায়গায় এক ভগ্নদশা দেখতে পেয়েছি।’
তিনি জানান, বিগত পাঁচ থেকে সাত বছর অনেক হাসপাতালের ন্যূনতম রক্ষণাবেক্ষণ হয়নি। কোথাও ভবনের অভাব, কোথাও যন্ত্রপাতির সংকট, আবার কোথাও ওষুধ নেই। বৈশ্বিক প্রতিকূল পরিস্থিতি এই চ্যালেঞ্জকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ওষুধের দাম নির্ধারণের বিষয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ নীতির ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কোম্পানিগুলো অবশ্যই ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, তাদের মুনাফার প্রয়োজন আছে। অন্য সবকিছুর দাম বাড়লেও ওষুধের দাম বছরের পর বছর আটকে রাখা যেমন সঠিক নয়, তেমনি আমরা এমন কোনো নীতিমালাও চাই না যার ফলে যখন খুশি দাম বাড়িয়ে ফেলা যায়।’
তিনি উল্লেখ করেন, মূল লক্ষ্য হতে হবে এমন একটি ভারসাম্য বজায় রাখা যাতে জনগণ এবং সরকার কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা একটি গণতান্ত্রিক সরকার হিসেবে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। মানুষের কাছে ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনরক্ষাকারী ওষুধ নিশ্চিত করা আমাদের লক্ষ্য। আপনাদের (মালিকপক্ষ) সমস্যাগুলো দ্রুত ফয়সালা করতে চাই। সম্মিলিত সমাধান না এলে ইন্ডাস্ট্রি ও দেশ–উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সাইফুল এটিএম ইসলামসহ বেসরকারি স্বাস্থ্য খাতের প্রতিনিধি, ওষুধ শিল্পের মালিকগণ এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


