কক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশের বিশেষ অভিযানে চারটি আগ্নেয়াস্ত্র, ৭৯ রাউন্ড গুলি ও একটি নিবন্ধনবিহীন সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ আব্দুল খালেক ওরফে নাহিদ (৩১) নামে এক শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার নাহিদের বিরুদ্ধে হত্যা, অপহরণ, অস্ত্র, মাদক ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১৬টি মামলা রয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে দুটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে।
সোমবার রাতে টেকনাফ মডেল থানা পুলিশের একটি বিশেষ দলের অভিযানে উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের লেদা মৌলভীপাড়া এলাকার কালুর দোকানের সামন সড়ক থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা নম্বরবিহীন একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাও জব্দ করা হয়।
পুলিশ জানায়, স্থানীয় জনগণের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে আব্দুল খালেক ওরফে নাহিদকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে আরও পাঁচ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি পালিয়ে যায়।
গ্রেপ্তারের পর স্থানীয় জনতা ও উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে নাহিদের হেফাজত থেকে একটি ম্যাগাজিনসহ পিস্তল উদ্ধার করা হয়। ওই ম্যাগাজিনে দুটি গুলি ছিল। এছাড়া তিনটি দেশীয় তৈরি ওয়ান শুটার গান, ৬৯ রাউন্ড রাইফেলের গুলি, ১০ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, একটি সাদা রঙের এ্যাংলেট এবং একটি নিবন্ধনবিহীন সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ করা হয়।
পুলিশের তথ্যমতে, উদ্ধার করা অস্ত্র ও গুলির মধ্যে একটি পিস্তল, তিনটি দেশীয় তৈরি ওয়ান শুটার গান এবং মোট ৭৯ রাউন্ড গুলি রয়েছে।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রেপ্তার আব্দুল খালেক ওরফে নাহিদ একজন তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অপহরণ, অস্ত্র, মাদক ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধে ১৬টি মামলা রয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে দুটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও গুলিসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
ওসি আরও বলেন, ‘অভিযানের সময় ঘটনাস্থল থেকে কয়েকজন সন্ত্রাসী পালিয়ে গেছে। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধার করা অস্ত্র ও গুলির বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করা হয়েছে।’
পুলিশ জানায়, থানার রেকর্ডপত্র যাচাই করে নাহিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক, ডাকাতি, হত্যা ও অপহরণসহ মোট ১৬টি মামলা পাওয়া গেছে। এসব মামলার কয়েকটি তদন্তাধীন এবং কয়েকটি বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে আরও দুটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।
গ্রেপ্তার শীর্ষ সন্ত্রাসী নাহিদ ও পলাতক অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে টেকনাফ মডেল থানায় সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে এবং টেকনাফের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


